nodir kule uwriter club

নদীর কূলে

নদীর ঐ কূলে গড়িলাম পিরিতি,
নদীর কূলে যেতে মানা,
মাঝ খানে ভরা নদী,
তরী তে নেই মাঝি।

মরি হে সখি তোর তরে,
তোর প্রেম বিরহের তাপে
কত দিন পার হয়ে গেল,
কত তরী চলে গেল –
নদীর কিনার ধরে।

কত নদীর জল,
ভেসে গেল যমুনা দিয়া,
পারে ভিড়ল না কোন তরী,
মরি হে সখী তোর লাগি,
আকুল যে এই হিয়া –
তুমি কি কাঁদো মোর তরে,
অবেলায় নিশি রাতে –
শিমুল গাছের নিচে বসে,
চেয়ে কি দেখ নদীর জলের দিকে –
কবে আসিব তোমার তরে,
নদীর জলরাশি ডিঙি দিয়ে –
থেকো গো সখি মোর তরে,
হারিয়ে ফেলনা বিশ্বাস
প্রত্যেহ আসিও তুমি নদীর পাড়ে,
একদিন আসিব ফিরে সখি তোমার নিড়ে –
শত বাধা পেরিয়ে হইলেও,
আসিব হে সখি তোমার প্রেমের টানে।

প্রভাতের রবি পুর্বে উঠিয়া,
গগনে ছড়ায় চারিদিকে আলো –
কত যে ডিঙি পার হয়ে যায়,
নদীর এ কুল দিয়া
কত তরী মাল বোঝাই,
নেই তরী তিল পরিমাণ ঠাঁই –
সকলে চলে যায় নিজ গন্তব্য,
চায় না কেহ এ পাড়ে।

সকালের রবি পশ্চিমে ডুবে যায়,
গোধূলি বেলা সাঙো করে –
ধরনীতে নেমে আসে অন্ধকার,
চারিদিকে ঝিঁঝিপোকার ডাকে,
প্রলকিত সন্ধ্যা লগন,
সকলে ঘরে ফিরে ব্যাস্ততা শেষে –
গায়ের বধু উনুনে পাতিল উঠাইয়া,
ঘরের এলোমেলো বিছানা পরিপাটি রাখে,
বারান্দার দোলনায় শিশুর ক্রন্দন শুনে,
ছুটে যায় ঘরের বাহিরে –
কোলে লইয়া কত কথা কইত মায়ে,
নাহি শোনো মায়ের কথন।

অবিরাম কেঁদে যায় সন্ধ্যা বেলায়,
কোলে লইয়ে চাঁদ দেখাত –
যাদু শোনা বলে,
নাহি থামে শিশুর ক্রন্দন।

অনলের তাপে পাতিলের ঢাকনা,
উপছে পড়ে নিভে যায় উনুন,
সৃষ্টি হয় কালো ধোঁয়া,
ক্রন্দন শিশুকে দোলনায় রেখে।

ফিরে আসে উনুনের কাছে,
চারিদিকে ধোঁয়াটে আঙিনা –
চোখে নাহি দেখা যায়,
নিভে যাওয়া উনুন খানি নাহি জ্বলে।

একদিকে শিশুর ক্রন্দন,
অন্যদিকে উনুন জ্বালানোর চেষ্টা,
সন্ধ্যা যেন নরগ মনে হয়,
বহু চেষ্টায় জ্বলে উনুন খানি।

রজনী জেঁগে শুনি সন্ধা বেলার,
গ্রাম্য বধুর আত্মানার্ত চিৎকার _
রজনীর শেষ লগন পর্যন্ত,
মেলে যদি তরী ঐ পাড়ে যেতে।

About the Author মাইকেল বিকাশ সিং

follow me on:

Leave a Comment: