তুই ম্যারিড, তুই টিসি

আমাদের ক্লাস টিচার হরিপদ স্যার, অত্যন্ত সাদাসিধে মানুষ। কিন্তু তার ক্লাসে কেউ ভুলেও টু শব্দটিও করে না। কেননা যে অযথা কথা বলে, স্যার তাকে প্রধান শিক্ষকের হাতে দিয়ে আসেন। আর আমাদের প্রধান শিক্ষক, মোকাদ্দেস আলী খুবই ভয়ানক লোক। তাকে দেখলেই ছেলেমেয়েদের জানে ভয় চলে আসে। এ কারণেই হরিপদ স্যারের ক্লাসে সবাই চিরকাল চুপচাপ থেকেছে। হরিপদ স্যারের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ক্লাসের ফার্স্ট বয় আবুল কাদেরের। আবুল কাদের নামে আবুল হলেও, কাজে খুবই চঞ্চল। সে একদিন বুদ্ধি করে স্যারকে ফেসবুক আইডি খুলে দিল। স্যার তখনো সেরকম অভিজ্ঞ হয়ে উঠেনি। একদিন রফিক, স্যারকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিল। স্যারও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটা গ্রহণ করল। কিন্তু পরেরদিন স্যার রফিকের নামে প্রধান শিক্ষকের কাছে নালিশ দিল। সমস্যাটা হলো রফিকের আইডির নাম ছিল প্রিন্স রফিক। হরিপদ স্যার বলছেন, ‘বয়স কত ছেলের? বড়জোর ১০-১২ হবে। সে কি না বাপ-মায়ের দেওয়া নাম রফিক উদ্দিন বাবুল থেকে নিজেকে প্রিন্স রফিক দাবি করে? এর একটা বিহিত করা দরকার।’ প্রধান শিক্ষক শুধু হাসেন মুখে কিছু বলেন না। এটা দেখে হরিপদ স্যার বলেন, ‘স্যার আপনি কিছু বলুন? হাসছেন কেন স্যার?’ অনেক কষ্টে প্রধান শিক্ষক, হরিপদ স্যারকে বোঝাতে পারলেন যে, ওটা ফেসবুক, ওখানে অনেকেই এরকম নাম ব্যবহার করে। কিন্তু বাস্তবে তাদের নাম পরিবর্তন হয় না। কিন্তু উক্ত ঘটনার পর সবাই স্যারকে ভীষণ ভয় পেতে শুরু করলো। কেউ স্যারের সাথে ফেসবুক ফ্রেন্ড থাকল না। সবার মনেই ভয়, কখন যে স্যার কি নালিশ দেন তার তো ঠিক নেই। হঠাত্ বন্ধুদের সাথে চ্যালেঞ্জ লেগে আসিফ, হরিপদ স্যারকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিল। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘন্টা যায়, তবুও স্যার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছেন না দেখে সে আশা ছেড়ে দিল।

পরদিন ক্লাসে সবাই বলাবলি শুরু করল, হরিপদ স্যার এখন আর ফেসবুক চালায় না। এই কথা গোটা স্কুল ছড়িয়ে যেতে বেশিক্ষণ লাগল না। ক্লাসের সময় হওয়ার সাথে সাথেই স্যার হাজির। কিন্তু স্যারে হাতে কি যেন একটা কাগজ। স্যারের মনটাও আজ বেশ রাগী রাগী। সবাইকে অবাক করিয়ে তিনি আসিফকে জায়গা থেকে উঠে আসতে বললেন। অথচ আসিফ ছিল ক্লাসের দ্বিতীয় সেরা ছাত্র। আসিফ ভয়ে ভয়ে গেল। কাছে যাবার সাথে সাথেই সজোরে একটা থাপ্পড় পড়ল আসিফের গালে। আসিফ অবাক, গোটা ক্লাস হতবাক! স্যার বলছেন, ‘এই বয়সে বিয়া করছিস? দ্বারা তোর বাপ-মা কে ডাকছি। ওরা আসুক। আজকেই তোকে টিসি দেব।’ আসিফও ভেবে পাচ্ছে না, এ কি কাণ্ড! সবাই চিত্কার করে বলল, ‘স্যার টিসি দেবেন?’ ‘জানিস না তোরা, বিবাহিত কেউ স্কুলে পড়তে পারে না। আরে এ তো অন্যায় করেছে। এর সাজা পেতেই হবে।’ আসিফ অবাক, সে বিয়ে করতে যাবে কেন? স্যারকে বলারও সাহস নেই। চোখের ইশারায় সে আবুলকে কিছু ইঙ্গিত করল। এবার স্যারের প্রিয় ছাত্র আবুল দাঁড়িয়ে বলল, ‘স্যার আসিফ কবে বিয়ে করল? আমরা তো জানি না স্যার, নিশ্চয় আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।’ ‘আরে না। আমি দেখেছি ওর ফেসবুক প্রোফাইলে Relationship Status :Married দেওয়া।

আসিফ, তুই ম্যারিড, তুই এখনি টিসি,’ এ কথা শুনে সবাই হেসে ফেলল। অবশেষে স্যারকে বোঝানো গেল, আসিফ আসলো বিয়ে করেনি। সবই ফেক। ইচ্ছা করেই মজা করার জন্যই ওভাবে প্রোফাইল সাজিয়েছিল। তাই সে যাত্রায় আসিফও বেঁচে যায়। কিন্তু তারপর থেকে কেউ আর স্যারকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইনি।

About the Author ফাতিন ইসরাক আবির

follow me on:

Leave a Comment: