somoychokro uwriter club

সময়চক্র

ছোটখাট একটা রুমে বসে আছি। ভেতরে গুমট ভাব। মাথার উপরে একটা ফ্যান ঘুরছে আর সাথে বিরক্তিকর ক্যাচর ক্যাচর আওয়াজ করছে। বেশ কিছুক্ষণ হলো বসে আছি চলে যেতেও পারছি না।কারন আমার সামনে যিনি বসে আছেন। অফিসের বস,রব্বানী সাহেব। তিনি এখনো আমাকে যেতে বলেননি। টেবিলে ঢাউস সাইজের একটা প্যাকেট থেকে বিরিয়ানি খাচ্ছেন তিনি। কব্জি ডুবিয়েই খাচ্ছেন বলা যায়।ভদ্রলোকের কাজের কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। বই পড়া আর খাওয়া নিয়েই পড়ে থাকেন। প্রায়ই আমাকে ডেকে পাঠান, কোনো কারণ ছাড়াই। দু একটা কথার পর চলে যেতে বলেন।

ওনার কথাবার্তার বেশিরভাগই বিজ্ঞান বিষয়ক। সেই বিজ্ঞান যার নাম শুনলে এখনো আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। আমি সামান্য অফিসের কেরানি। আমাকে এসব বলে উনি কি মজা পান সেটা উনিই ভালো জানেন।

“সময়চক্রের নাম শুনেছ?”

যাক বাবা এতক্ষন পর মুখে কলি ফুটল। কিন্তু এবারও সেই একইরকম প্রশ্ন। আমি উত্তর দিলাম “জানি না”।

“তাহলে আজ এটা নিয়েই কথা বলি। কি বলো?বেশ ইন্টারেস্টিং বিষয় কিন্তু”।

আমি নিরুপায় হয়ে বললাম, “ঠিক আছে, আপনি যা ভালো মনে করেন”।

ভদ্রলোক তার বিশাল বপু নিয়ে নড়েচড়ে বসলেন। কথা বলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই খাওয়া শেষ করেছেন।

“এটাকে ইংরেজিতে ‘টাইম লুপ’ বলে। যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে। মনে কর, তুমি সকাল বেলা এলার্মের শব্দে উঠলে, হাতমুখ ধুলে, নাস্তা করলে, পত্রিকা পড়লে এর পর কাজের জন্য বেরিয়ে পড়লে।যদি এই একই ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে? তুমি বারবার নিজেকে একই কাজ করতে দেখছ। এক ঘন্টা পর পর অনেকগুলো “তুমি”একই কাজ করছো। এর মানে কি? এর মানে হলো তুমি টাইম লুপে আটকা পড়ে গেছ। যেখান থেকে তুমি বেরিয়ে আসতে পারছো না।

তোমার কাছে এখন আমি একটা প্রশ্ন করি। এখন না পারলে পরে উত্তর দিও। যখন তুমি টাইম লুপে আটকা পড়বে তখন তুমি কি করবে?”

কথা গুলো বলেই তিনি থেমে গেলেন। আমি পরে উত্তর জানাবো বললাম। উনি তখন যাওয়ার অনুমতি দিলেন। ৭ টা বেজে গেছে। একে তো সকাল থেকে কাজ করা আবার ওই লোকের সামনে বসে থাকার পর ক্লান্ত লাগছে। বাস স্টপে যাওয়ার সাথে সাথেই বাস পেয়ে গেলাম। বাসে যেতে যেতে ভদ্রলোকের কথাগুলো মনে পড়ল।”সময়চক্র”! উনি পারেনও বটে। আগে সাক্ষাৎ হলে বিজ্ঞানটা ওনার কাছ থেকেই শিখে নিতাম। কিন্তু এ ও কি সম্ভব?আমার মত দেখতে, না ভুল বলা হলো, আমার একটা কার্বন কপি, না আবারও ভুল বলা হলো, একটা নয় অগণিত “আমি”। আদৌ সম্ভব!

বাসায় পৌঁছাতে ৮টা বেজে গেলো। দোতলা একটা বাসায় উপরতলায় থাকি আমি। ছোটখাট ছিমছাম বাসা। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বাড়ির মালিকের সাথে দেখা হলো। কেমন যেন অবাক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন।

“আপনি নীচে আসলেন কখন?” এবার আমার অবাক হবার পালা।

“আমি তো মাত্র অফিস থেকে এলাম”।

উনি বললেন, “এক মিনিটও তো হলো না। আমি ভেতরে আপনার সাথে কথা বলে, ছাদে তালা মেরে এলাম।”

বলছেন কি উনি! পাগল হলেন নাকি? আমি ব্যাপারটা কি, সেটা নিজেই উদঘাটন করতে চাইলাম। তাই কথা না বাড়ানোর জন্য বললাম,”ওই আরকি।একটু নীচে গিয়েছিলাম। খুব দ্রুত গিয়েছিলাম তো, তাই আপনার অমন মনে হচ্ছে”। বলেই উপরের সিড়ি দিয়ে হাটা ধরলাম। পেছনে না ফিরলেও বুঝতে পারছিলাম উনি তখনো আমার দিকে তাকিয়ে।

দরজার সামনে দাড়ালাম। তালা তো ঠিকভাবেই লাগানো আছে। কাউকে ভেতরে ঢুকতে হলে তালাটা তো খুলতে হবেই। বাসায় ঢুকে কাউকে পেলাম না। আর বেশি চিন্তা না করে কাপড় ছেড়ে শুয়ে পড়লাম। খাওয়ার ইচ্ছে আর হলো না। বেশ কিছুক্ষণ পর দরজা খোলার শব্দে আমার ঘুম ভাঙলো। এমন সময় দরজা খুলবে কে? আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো জীবনের সবথেকে বড় বিস্ময়।পর্দার আড়াল থেকে আমি “আমাকে” পড়নে বাসায় আসার সময় যে পোশাক ছিলো সেই পোশাক। তড়িঘড়ি করে পাশের রান্নাঘরে গেলাম। বিস্ময় তাহলে এখনো শেষ হয়নি। রান্নাঘরে ওই সময়ের আগে আমি যাই নি। এখন দেখছি দুটি লাশ পড়ে আছে। দুটি লাশই আমার। একটা লাশের হাতে ছুরি। ছুরিটা আমি হাতে নিলাম। আমি রব্বানী সাহেবের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি।

“আমাকে খুন করতে হবে!”

About the Author ফাহিম মোন্তাসির

স্বপ্ন দেখি একদিন বিশাল এক লাইব্রেরির মালিক হব। এই আধো-বাস্তবতার বাইরেও অতি বাস্তব একটি স্বপ্ন আছে, বড় হয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হব। লেখালেখির প্রারম্ভে আছি। সাহিত্যিক হওয়ার ইচ্ছা নেই, শখের বশেই লিখি। বর্তমানে পড়ালেখা করছি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে।

follow me on:

Leave a Comment:

2 comments
Sazid says June 7, 2018

ভাই বুঝলাম না ভালোভাবে! যাদি একটু বুঝিয়ে দিতেন!

Reply
    ফাহিম মোন্তাসির says June 11, 2018

    আসলে এই গল্পটা একটা প্রতিযোগিতার জন্য লিখছিলাম। সর্বসাধারণের জন্য চিন্তা করে তখন লেখা হয় নাই। তাই বুঝতে একটু কষ্ট হবে।
    ঠিকভাবে বুঝতে হলে টাইম লুপ সম্পর্কে গুগলে সার্চ করা অথবা TRIANGLE মুভিটা দেখা যেতে পারে।

    Reply
Add Your Reply