Ami o akjon micir ali Uwriter.club

আমি ও একজন মিছির আলী (পর্বঃ ১)

এত বড় বাড়িতে মানুষ বলতে কেবল আমি একা। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। নতুন করে আবার মিছিল আলীর দেখা পাচ্ছি। শরীর- স্বাস্থ্য ঠিক নেই। অনেকটাই রোগা হয়ে গেছে। লোক মুখে শুনেছিলাম হুমায়ূন স্যার চলে যাবার পর থেকে মিছির আলীর দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। কেউ কেউ ধরেই নিয়েছিলো হুমায়ূন স্যার যাবার বেলায় মিছির আলীকে সাথে করে নিয়ে গেছেন। তবে আমার প্রায়ই মনে হতো মিছির আলী ফিরে আসবে। হয়তো কোন জটিল কেসে আটকে গেছে।

গত পরশু প্রথম মিছির আলীর দেখা পাই। বেশ কয়েকদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম কিন্তু মিছির আলী আসতেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে গেল। আমার কাছে মনে হয় এই মানুষটা জাদুকর। মানুষের মুখ দেখেই বলে দিতে পারে সমস্যাটা কি। কিছুদিন পর পরই বেনামি চিঠি আসছে। কোন নাম কিংবা ঠিকানা কিছুই নেই। এখন পর্যন্ত চারটে চিঠি পেয়েছি। গত রোববার সর্বশেষ চিঠিটা আসে। তাতে কেবল লিখা ছিলো “আজ রোববার”। কিন্তু আমি জানি না কে বা কারা আমার পেছনে লেগেছে আর কেন-ই বা এমন চিঠি পাঠাচ্ছে।

মিছির আলী কাঁধে হাতে রেখে বললো, “এই সামান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। Everything will be alright”. মিছির আলীয় কথায় ভরসা পেলাম। এই দেশের অনেক মানুষই এমন বিপদের সম্মুখীন হলে মিছির আলীর খোঁজ করে। একবার কোন সমস্যার সাথে জড়িয়ে গেলে সমাধানও বের করে দেয়।

দুপুর দুটো বেজে চৌদ্দ মিনিট ঘড়িতে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বের হতে হবে। অনেক দেরি হয়ে গেছে। মিছির আলী সময়ের ব্যাপারে খুবই সচেতন। যে করেই হোক তিনটের মধ্যে স্কুল গেটের পেছনের চায়ের দোকানটায় যেতে হবে। মিছির আলী অপেক্ষা করবে। এক কাপ চা আর নোনতা বিস্কিটের নিমন্ত্রণ পেয়েছি গত রাতে। যাবার সময় সাথে করে বেনামি চিঠিগুলোও নিয়ে যেতে হবে। মনে হচ্ছে আমার এই সমস্যার সমাধানটা আজকেই হয়ে যাবে।

তিনটে বাজার চার মিনিট আগেই আমি উপস্থিত। কিন্তু মিছির আলী নেই। আমার স্পষ্ট মনে আছে স্কুল গেটের পেছনের চায়ের দোকানটার কথাই বলেছিলো। আর সময়টা ছিলো বিকেল তিনটে। জ্যামের কারণে একটু দেরি হতেই পারে। একটু অপেক্ষা করা যাক।

অপেক্ষা করলাম। কিন্তু মিছির আলী এলো না। চারটে পর্যন্ত চায়ের দোকানটায় অপেক্ষা করলাম কিন্তু তার দেখা নেই। এতদিন জানতাম এই মানুষটা সময়ের ব্যাপারে সবসময়ই সচেতন। কিন্তু আজ ঘটলো উল্টোটা। শেষ কয়েকদিনে মনটা একটু ভালো হলেও আজ ভীষণ খারাপ। টেনশনও একটু একটু করে বাড়ছে। এমন তো আগে কখনোই হয় নি।

About the Author দুর্জয় দাশ গুপ্ত

একজন ক্ষুদে লেখক। গত দুবছর ধরে অমর একুশে বইমেলায় গল্পের এবং কবিতার বইয়ে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

follow me on:

Leave a Comment: