নিঃশব্দের শিহরণ (পর্ব – ১)

পড়ন্ত বিকেল সবেমাত্র ই তার বর্ণিল আলোয় রাঙিয়ে দিল ধরা। মুহূর্তেই চঞ্চলতার আবির ছড়িয়ে দিল ধুলিময় ধূসর এই পৃথিবীর প্রতিটি কোণায়। যদিও সে জানে এখনি সল্ধ্যার আধারে হারিয়ে যাবে সে। তবুও পড়ন্ত এই বিকেলের কেন এত আয়োজন? তবে কি আধারের গভীরে হারানোর এ হলো পূর্ব সৎকার? নাকি হাসি মুখে নিজের জায়গা খালি করার এক অকৃত্রিম অভিনয়? বড় মায়াময়! তবু বাস্তবতার এক নিষ্ঠুর চাদরে ঢাকা, কি করুণ! তবু স্বপ্নময় এক আবির রঙে রাঙা। সমাধি পথটি হয়ত জানা, তবু বাঁচতে নেই যে মানা। হয়ত তাই সন্ধ্যা -রাতের এই অকুল যাত্রার মুখে দাড়িয়েও পড়ন্ত এই বিকেল এত সুন্দর। এতক্ষন জানালার বাইরে তাকিয়ে থেকে মনে মনে এই কথাগুলোই ভাবছিল এশা। কেন সব শেষ হয়ে যায় অবশেষে? কেন? কেন? নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনা। মনের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ -ঘৃণা আর অভিমান জল হয়ে ঝরে পড়ে তার শ্রান্ত -ক্লান্ত সজল দু চোখ বেয়ে।

ক্লান্তিময় দিনগুলো শেষে আবারো আসে রাতের নিস্তব্ধতা। ভেঙে পড়ে ব্যস্ততার প্রাচীর। শ্রান্ত -ক্লান্ত মন যেন খুজে চলে একটু শান্তির আশ্রয়। ক্লান্ত সারা দেহ মাথা নুইয়ে প্রণাম জানায় শান্তির হুর দের। সারাটা দিন অফিসের ধাক্কা সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত -অবসন্ন এশা সবেমাত্র ঢুকল তার ছোট্ট কুটিরে। ব্যগ টা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বিছানায় গিয়ে বসল ও। মা? ও মা? এক গ্লাস পানি দিয়ে যাও, চেঁচিয়ে ডাকলো মা কে। আসছি রে মা…

প্রায় পঞ্চাশ এর কাছে বয়সী এশার মা রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে বললেন। বিছানা থেকে উঠে টেবিলের কাছে এল এশা। ড্রয়ার খুলে কি যেন খুজতে লাগলো। নানা রঙে নকশা আঁকা অনেক গুলো ডায়েরি অতি যত্নে সাজানো তার ভেতর। প্রতিটি ডায়েরি তার বড় যত্নের।ৰড় মমতায় রং তুলির আচড়ে রাঙানো তার প্রতিটি পাতা । আবছা কমলা আর কালচে বাদামি রঙের ‘ MANUSCRIPT OF OUR FRIENDSHIP ‘ নাম লেখা ডায়েরি টা হাতে নিয়ে আবার ও বিছানায় ফিরে এল ও। নতুন বাসা দেখার কি হল রে মা? বলতে বলতে এশার মা ঢুকলেন মেয়ের রুমে। এক গ্লাস পানি চেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে তার মেয়েটি। দু চোখ ঝাপসা হয়ে আসে তার…………..।

 

(চলবে)

About the Author তানিয়া পারভীন মুক্তা

তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি? নতুন নামে ডাকবে মোরে বাঁধবে, বাঁধবে নতুন বাহুডোরে, আসবো যাবো চিরোদিনের এই আমি ....... কখনো রবীন্দ্রের ভাবনায় ডুবেছি আবার কখনো হুমায়ূন বিচ্ছেদে ভক্তদের অশ্রুবর্ষনে ভিজেছি। লেখকের কলমের কালিকে অনূভব করেছি আর তখনি কেঁদেছি আমি......... ------ তানিয়া সব সাধারণ মানুষগুলোর মতই বেড়ে ওঠা এই বাংলার পরিসরে।

follow me on:

Leave a Comment: