নিঃশব্দের শিহরণ (পর্ব – ২)

কখনো কখনো ও নীল আকাশের কালো মেঘের মতোই ঢেকে যায় জীবনের হাসিগুলো। তারপর ও সেই আবছা আধারেই এগিয়ে চলে জীবন। এভাবেই চলতে চলতে একসময় কেটে যায় জীবনের উপরের কালো মেঘ। বদলে যায় জীবনের গতিধারা। এ যেন শ্রাবনের অবিশ্রান্ত বাদলের পর এ চিলতে সূর্যের আলো।জীবনের এই আবছা আলো যেন এক নিমিষেই প্রখর হয়ে ওঠে বন্ধুত্বের মুখরতায়। টেনে বার করে আনে ব্যস্ত বিশাল পৃথিবীর গহিন থেকে সল্প যেটুকু আনন্দের বাতাস। যার প্রবাহে সরে যায় ঘন কালো মেঘ। বেরিয়ে আসে সৌভাগ্যের সোনালি সূর্য।আজ তাই মনের বাগানে আবার ও ফুটেছে ফুল, ঢেউ লাগালো অবশেষে ছাপিয়ে মনের কুল। আজ স্বপ্নের রঙে রঙিন অবুঝ মন, স্মৃতির পাতায় তুলছে আলোড়ন। জানি, সব হয়েছে শেষ। তবু – মনের শিখায় জ্বলছে অনিমেষ। দমকা বাতাস, জ্বলছে দাউদাউ তবু – মনের পাতার পোড়েই না কোথাও। হোক না স্মৃতি, তবু আজও সজীব প্রাণের ছোঁয়ায়, তাই বুঝি ফের রঙ লেগেছে ধরায়। চেয়ে ঐ আকাশ পানে, খুজছি যেন কাকে! লক্ষ কোটি তারার ভীড়ে সেই সোনালি দিনটি কে। যেদিন সবাই ছিলাম পাশে, কান্না – হাসির ছোট্ট ভেলায় চেপে। ভেবেছিলাম থাক্ না এমন, দিন এভাবেই কাটুক কিন্তু – আজ তা সবই স্মৃতি,তবু যত্নে মনেই থাকুক। Manuscript of our friendship যেন এশার মনের manuscript। কতবার পড়েছে তা ও নিজে ও জানে না। শুধু পড়েই নি কেঁদেছে ও বহুবার। নিজের হাতে বানানো প্রতিটি ডায়েরি এশার বড় যত্নের,বড় ভালবাসার।এ ভালবাসার কোনো সংঙ্গা নেই ওর কাছে। স্মৃতিকে আকড়ে বেঁচে থাকাই যেমন মানুষের শখ, এশাও এর ব্যতিক্রম নয়। এশা? ও এশা? ওঠ মা? বেলা 12 টা বাজতে চলল উঠে দেখ। ধড়ফড় করে বিছানা থেকে উঠে পড়ে এশা। তাহলে কি এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিল ও? বালিশের পাশে মেলে রাখা তার manuscript। মনে মনে হাসে ও। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখল সকাল 8 টা বাজে। মা তুমি শুধু মিথ্যে বল। জাহানারা বেগম ম্লান হাসেন।ঘুমন্ত মানুষ জাগানোর এ তার পুরনো অভ্যাস। মনে পড়ে যায় এশার বাবার কথা। মানুষটা মারা গেলেন এই দু বছর হলো। তবু ও জাহানারা বেগমের সব কাজেই যেন প্রতি মুহূর্তে এসে উকি দিয়ে যান। মনে পড়ে যায় সেদিন গুলো কে যখন অফিসের জন্য এভাবেই ঘুম ভাঙাতেন এশার বাবার। কিন্তু শেষ যেদিন মানুষটি ঘুমিয়েছিলেন,সেদিনের সেই ঘুম আর ভাঙাতে পারেননি জাহানারা বেগম। এশা এসে জড়িয়ে ধরে মা কে। বুঝতে পারে মায়ের অনুভূতি গুলো কে। মেয়ে কে বুকে নিয়ে মা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। জানিস্ রে মা তিনি বড় ভালো মানুষ ছিলেন। বড় ভালোবাসতেন……..। যেন চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে সেই দিনগুলো।

(চলবে)

About the Author তানিয়া পারভীন মুক্তা

তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি? নতুন নামে ডাকবে মোরে বাঁধবে, বাঁধবে নতুন বাহুডোরে, আসবো যাবো চিরোদিনের এই আমি ....... কখনো রবীন্দ্রের ভাবনায় ডুবেছি আবার কখনো হুমায়ূন বিচ্ছেদে ভক্তদের অশ্রুবর্ষনে ভিজেছি। লেখকের কলমের কালিকে অনূভব করেছি আর তখনি কেঁদেছি আমি......... ------ তানিয়া সব সাধারণ মানুষগুলোর মতই বেড়ে ওঠা এই বাংলার পরিসরে।

follow me on:

Leave a Comment: