নিঃশব্দের শিহরণ (পর্ব – ৩)

বিচিত্র এই জীবন বড় কঠিন তবুও কখনো ও বা মনে হয় চারদিক থেকে মায়ার চাদরে জড়ানো ভালোবাসার এক রুক্ষ মূর্তি। ছুঁয়ে দিয়ে হাসতে চায় মন, আবার ভালোবাসার কাছে কাদতেঁ ও চায় অঝোরে। কভু নিঃসঙ্গ তবুও কল্পনায় পাখা মেলে।উড়ে চলে হাওয়ার বুকে ডানা মেলে সেই সুদূর এ। কভু আলোড়ন তোলে প্রাণে, কভু ভাসে নয়ন জলে…….. —কাঁদছে এশার দু চোখ ও। —কেন? জানে না ও নিজেও। তবুও অঝোরে কাঁদছে বালিশে মুখ গুঁজে। এ হলো পৃথিবীর বুকে বেচে থাকার অশ্রু। নিঃশব্দের কান্না, অন্তরের শিহরণ। নির্দিষ্ট কোনো কারন হয়ত নেই তবুও তা ছুয়ে যায় গভীর থেকে গভীরে।

বাবা তুমি কেন চলে গেলে এমন করে? কেন আমাকে আর মা কে ও সাথে নিলে না? কেন এমন নিষ্ঠুর তুমি? দু চোখের জল যেন বাধা মানে না এশার। আজকের এই দিনে বাবাকে কাছে না পেয়ে হাহাকার করে ওঠে এশার মনটা। মনে পড়ে যায় জন্মদিনে বাবা সারাটা দিন সময় দিতেন এশা কে। আজ 14 অক্টোবর, এশার জন্মদিন। বাবা ও বাবা? কোথায় গেলে আমাকে একা করে দিয়ে? তোমাকে ছাড়া কিভাবে থাকব আমি? জন্মেরপর থেকে দু বছর আগ পর্যন্ত ও বাবাই ছিল এশার একমাত্র বন্ধু। তাই কামরুল হাসান মারা যাবার পর এশাও নিজেকে নিঃসঙ্গ ভাবে।ভাবে ঠিক নয়, নিজেকে নিঃসঙ্গ রাখতে চায়। কারণ অল্প বয়সেই সৃষ্টিকর্তা ওর থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন স্নেহ – শীতল আশ্রয় টুকু। তাই কোন কিছু কে আঁকড়ে ধরে না আর। ভয় হয় পাছে সে ও না একা করে দেয় ওকে। এ জগৎ বড় মায়াময়,ৰড় নিষ্ঠুর। কখন যে কার হাসি কেড়ে নেবে কেউ জানে না সেই খবর। বাবা ও বাবা? সামনে টি টেবিলের উপর রাখা মিনি size এর black forest এর দিকে তাকিয়ে আবার ও ডাকে তার বাবাকে। বাবাকে ছাড়া যে এই জন্মদিন হবেনা। Light off। Black forest এর উপর লাল, নীল, গোলাপী, হলুদ মোমবাতি গুলো টিপটিপ করে জ্বলছে। সেদিকে পলকহীন এশাও ওর বাবার অপেক্ষায় বসে আছে। মনে পড়ে বাবা একটা গান শিখিয়েছিল ওকে। ‘হাজার দুঃখ শোকে হৃদয় ব্যথায় যখন কাতর। হাত বুলিয়ে মাথায় আমার বাবা করে আদর। ‘ আজ বাবা নেই। মাথায় হাত বুলিয়ে দেবার ও কেউ নেই। দৌড়ে ছুটে যায় মায়ের ঘরে। মা ও জেগে আছেন।এশা ঘরে আসতেই বললেন – Happy birthday মামনি। তার ও চোখ জলে ভেজা। নিজের চোখের পানি ঝরিয়ে মায়ের কষ্ট বাড়াতে চায়না এশা। নিজেকে সামলে নিয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে। মা ও মা? আজ আমাকে তোমার আর বাবার প্রথম দেখার গল্প বলবে? জাহানারা বেগম হাসেন।মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে পুরনো সেই দিন গুলো চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে। ওদিকে এশার ঘরে black forest এর উপর মোমবাতি গুলো পুড়ে পুড়ে নিঃশেষ হয়। নিঃশেষ হয় বটে কিন্তু ফেলে যায় তার অস্তিত্ব। আর সেই অস্তিত্বের টানেই ফিরে আসে আবার ও। অস্তিত্বের জানান দিয়ে ফের একলা করে চলে যায় দূরে বহু দূরে।

(চলবে)

About the Author তানিয়া পারভীন মুক্তা

তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি? নতুন নামে ডাকবে মোরে বাঁধবে, বাঁধবে নতুন বাহুডোরে, আসবো যাবো চিরোদিনের এই আমি ....... কখনো রবীন্দ্রের ভাবনায় ডুবেছি আবার কখনো হুমায়ূন বিচ্ছেদে ভক্তদের অশ্রুবর্ষনে ভিজেছি। লেখকের কলমের কালিকে অনূভব করেছি আর তখনি কেঁদেছি আমি......... ------ তানিয়া সব সাধারণ মানুষগুলোর মতই বেড়ে ওঠা এই বাংলার পরিসরে।

follow me on:

Leave a Comment: