Matir projar deshe - uwriter

মাটির প্রজার দেশে (Kingdom of Clay Subjects)

সিনেমাঃ মাটির প্রজার দেশে (Kingdom of Clay Subjects)
নির্মাতাঃ বিজন ইমতিয়াজ
ব্যপ্তিঃ৮৮ মিনিট
আমার রেটিংঃ৬/১০

সিনেমার কিছু দিকঃ


১.গল্পটি আমাদের গ্রাম-বাংলার। গ্রাম বাংলার সবগুলো উপাদানই মোটামুটি সিনেমাটিতে পেয়েছি। যেখানে কুসংস্কার, ধর্মীয় নীতি,যৌতুক, বাল্যবিবাহ,শৈশব,পশুপালন এরকম আরো অনেকগুলো উপাদান ছিল।

২. গল্পের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র জামাল আর তার মা ফাতেমা।

৩. সিনেমাটিতে কোনো গান নাই।

 

সিনেমার ভালো লাগা কিছু দিকঃ

১.সাউন্ড ইফেক্টঃ
পুরো সিনেমায় সাউন্ড ইফেক্ট ছিল অনেক সুন্দর আর পরিমিত মাত্রার। যখন যে ধরনের সাউন্ড ইফেক্ট দরকার সেটাই দেয়া হয়েছে।

২.অভিনয় এবং কাস্টিংঃ
সবার অভিনয় প্রচন্ডভাবে ভালো লেগেছে। জামালের মুখটা এখনো চোখে ভাসছে। প্রয়োজনীয় চরিত্রের প্রয়োজনীয় কাস্টিং ছিল পুরো সিনেমাটিতে।

৩. পুরো সিনেমাটিতে কোনো তাড়াহুড়া করে গল্প বলা হয়নি।পুরো সিনেমা আপনগতিতে গল্প এগোচ্ছিল।

৪.স্ক্রিপ্টঃ
সিনেমার সংলাপগুলো বেশ উপভোগ্য ছিল। প্রত্যেকটি সংলাপটি বেশ অর্থবহ এবং প্রাসঙ্গিক।

৫.সিনেমাটোগ্রাফিঃ
ফ্রেমিং গুলো বেশ ভালো লেগেছে।


খারাপ লাগা কিছু দিকঃ


১. মূল গল্পের সাথে লক্ষী আর তার পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।অথচ সিনেমার শুরুর প্রায় অনেকক্ষন ধরে এই চললো। শুধুমাত্র এখানে একটি গ্রাম্যজীবনের ছাপ দেখা গেছে। অযথা সিনেমাটাকে দীর্ঘায়ীত করা হয়েছে এভাবে।

২.সিনেমায় ক্লাইম্যাক্স শুরু হয়েছে প্রথম অর্ধের পরে। সিনেমা দেখতে বসে প্রথমেই আমরা এটা বোঝার অধীর আগ্রহে থাকি যে মূল ঘটনাটা কী? সিনেমাটা আসলে কোনরকমের গল্প আমাদের বুঝাতে চায়? সাধারনত সিনেমার ৩০% প্রারম্ভ, ৫০% ক্লাইম্যাক্স / ক্রাইসিস, শেষ ২০% গ্রন্থিমোচন। তবে এই সিনেমাটায় সেরকমটা ঘটেনি। যেহেতু এটা স্বাধীন চলচ্চিত্র, এ নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে এটি কিছু দর্শকের কাছে যেমন ভালো,অনেক দর্শকের কাছে বিরক্তিকর।

৩.কালার গ্রেডিং ভালো লাগেনি। পুরা সিনেমাটার ফুটেজ ওভার স্যাচুরেটেড মনে হচ্ছিল। রেড ক্যামেরায় শ্যুট করা অন্য সব সিনেমার চেয়ে এই সিনেমার ফুটেজ তুলনামূলক খারাপ লেগেছে।

সিনেমাটা সবার দেখার মতো। এরকম সিনেমা আমাদের দেশে অনেক বেশি দরকার। সবাই গিয়ে দেখবেন। ভালো লাগার মত সিনেমা।

ভালো লাগা, মন্দ লাগা জানানো শেষ। একটা বিষয় আমার প্রশ্ন ছিল। সিনেমার শেষের দিকে হুজুরের সাথে ফাতেমার সংলাপ ছিল অনেকটা এরকম (একদম এটি নাও হতে পারে) ঃ

হুজুরঃআমি তোমাগো সাথে যাইতে চাই।
ফাতেমাঃ আপনি যাইবেন? ক্যান,আমি না বেশ্যা?
হুজুরঃপাপ পূন্যের বিচার আল্লাহ পরকালে করবো। মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে এই রুহু যাইবো, দেহ না। এই রুহুর বিচার হইবো,দেহের কোনো বিচার নাই।
শেষ কথাটার মানে আমি বুঝিনি। দেহ তো রুহুর ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে। দেহ দ্বারা করা পাপ মানেই তো রুহুর পাপ হওয়া ধর্মীয় মতে। সিনেমাটা দেখার পর এই পরিস্থিতিতে এই সংলাপের অর্থটা আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবেন।

About the Author মুজাহিদুল ইসলাম জাহিন

Muzahidul Islam Zahin is a student and a film enthusiast. He loves to make films and tries to describe a film according to his own philosophy. Already he had made many Fictions and Ad. He loves to travel, write script and play guitar.

follow me on:

Leave a Comment: