ইবানিয়ার কাহিনী

বাগানে মিনুর সাথে খেলতো ইবানিয়া। তখন তার বয়স ছিল ৭ বছর। অভিজাত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হায়দার আলী এবং লিনা হায়দার এর একমাত্র মেয়ে ইবানিয়া হায়দার। কোন এক সময় তার বাবা মা ফ্রান্সে থাকাকালীন তাদের সাথে দেখা হয় এক অতি সুন্দরি, চালাক, অভিজাত এবং ভদ্র মহিলার তার নাম ছিল ইবানিয়া। তার ব্যবহারে লিনা-হায়দার দম্পতি এতই মুগ্ধ হন যে তারা ঠিক করে ফেলেন তাদের কোন মেয়ে সন্তান হলে তারা তার নাম রাখবেন ইবানিয়া ।

ইবানিয়া নাম টা বড়ই অদ্ভুত! তবে সবজায়গায় ইবানিয়া কে তারা “ইবু” বলেই ডাকেন। ইবু তার বাবা-মায়ের খুব আদরের একমাত্র মেয়ে। ইবু যখনি যেকোন সময়-অসময় তার বাবা-মায়ের কাছে একবার যা চেয়েছে তাই পেয়েছে কখনই তাকে কোনরকম বিপত্তির শিকার হতে হয় নি সবসময় সবকিছুই পেয়ে এসেছে কিন্তু সে একটা জিনিস তার বাবা-মায়ের কাছে পেত না আর তা হল সময়। লিনা-হায়দার দম্পতি তাদের কাজে এতই ব্যস্ত থাকতেন যে ইবুর জন্য তাদের কোন বিশেষ সময় থাকত না। তাই ইবু মিনুর সাথেই তার সারাটা সময় অনিচ্ছায় কাটাতো।

মিনু হল ইবুর জন্য নিয়জিত বিশেষ কর্মচারী। তবুও ইবুর কোন অভিযোগ ছিল না তার বাবা-মার কাছে। কারন, সে তার পরিবার কে খুব বেশি ভালবাসত। স্কুলে তার বন্ধুদের মা তাদের রেখে যেত কিন্তু ইবুকে রাখতে আসত তার গাড়িচালক এবং মিনা। তারপরও ইবু তেমন কিছু গায়ে লাগাত না।

আসলে সমস্যাটা শুরু হয়েছে তখন যখন লিনা এবং হায়দার সাহেবের মাঝে ঝগড়া হত তারা ইবুর সামনে একে-অপরকে কটাক্ষ করতেন। তারা নিজেদের মাঝে বিভিন্ন ঝামেলা বানিয়েছিলেন । এক পর্যায়ে তাদের মাঝে এমন সময় আসে যেখান থেকে তারা মুক্তি পাওয়ার জন্য আলাদা থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ইবু এসব কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। কারন সে তার বাবা-মা উভয়কেই খুব বেশি ভালবাসত। তার মাঝে একধরনের জেদ কাজ করতে শুরু করল সে খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিল, কারো সাথে কথা বলত না, খেলতো না, ঠিকমতো ঘুমাতো না বলতে গেলে কিছুই করত না। শুধু মনমরা হয়ে ঘরের কোণে বসে থাকত আর ভাবত।

একসময় ইবু অসুস্থ হতে থাকে তার মাথায় নাকি খুব ব্যথা করত কিন্তু সে কাউকে বলত না। পরে যখন তার মাথা ব্যাথা সহ্যের সীমা হারায় তখন তার বাবা-মা ব্যপারটা বুঝতে পারেন এবং ইবুকে দেশের সেরা চিকিৎসক এর কাছে নিয়ে যান,অনেক পরীক্ষা করে ডাক্তাররা বলেন ইবুর ব্রেইন টিউমার হয়েছে আর ইবুর ক্ষেত্রে যেটা খুবই সাংঘাতিক । এ কথা শুনে লিনা-হায়দার দম্পতি খুবই বিচলিত হয়ে পরেন তারা ইবুর সেরা চিকিৎসার জন্য তাকে পৃথিবীর সেরা ডাক্তারদের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু যেহেতু ইবুর বয়স অনেক কম ছিল তাই তারা তার অপারেশন করতে পারেন নি। এদিকে লিনা-হায়দার দম্পতি ইবুর জন্য আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। তাদের মাঝে সবকিছু ঠিক হয়ে যায়, ইবু এসব দেখে খুব খুশি হয় কিন্তু বিধাতা হয়ত তার জন্য এসব সুখ রাখেন নি। অল্পকিছুদিন পরেই ইবানিয়া মারা যায়।

সবাইকে ছেড়ে সে চলে যায়, না ফেরার দেশে। তার বাবা-মার কোল খালি করে একরাশ বেদনায় ভাসিয়ে চিরতরে বিদায় নেয় ইবু। ‘ইবু’ এক হাসিখুশি শান্ত শিশু, যার ছিল না কোন অভিযোগ। কে জানে, হয়ত অভিযোগ ছিল কিন্তু সে কাউকে বলে নি! তাইতো সব অভিযোগ বুকে নিয়ে সে চলে গেল অনেক অনেক দুরে!

Leave a Comment: