kimu uwriter

কিমু

বিগত আধ ঘন্টা কাস্টম অফিসের সামনে বসে আছি। বাবা মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে কর্মরত আছেন। পরিবারের সবার জন্য বাবা প্রতিবছরই কিছু উপহার পাঠান। আজ সেটা নিতেই এখানে আসা.. 


গত তিনদিন যাবৎ পরিবার কিংবা কারো সাথেই যোগাযোগ নেই আমার! অতিরিক্ত ভদ্র ছেলে হওয়ায় নিজের ফোনটা হারিয়ে ফেলেছি..ও হ্যা আমার পরিচয়ই তো দিলাম না.. আমি কিমু.. কিমু আহসান! বলে রাখা ভালো.. আমি কোনো মহামানব না.. বাবা হুমায়ূন স্যারের একজন ভক্ত.. সেই সুবাদেই আমার নাম বাবা স্যারের বিখ্যাত সৃষ্টি হিমুর সাথে মিল রেখে কিমু রেখেছেন.. খালি পায়ে না হাঁটলেও হিমুর মতো পকেটহীন পাঞ্জাবি পড়ে থাকতে ভালো লাগে! তবে আমার পছন্দের রং নীল।আজকেও নীল পাঞ্জাবি পড়ে এসেছি! আপাতত পেটের দায়ে না হলেও নিজের সার্টিফিকেট কাজে লাগাতে বেসরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। মা দুই বোনকে নিয়ে গ্রামেই থাকেন এখনও.. বোন দুইজন কে এতো অল্প বয়সে শহুরে হাওয়া লাগতে দিতে চান না তাই মা শহরে আসেন ও না খুব একটা! সে যাই হোক আমার পরিচয় তো শেষ করলাম! বুঝতেই পারছেন নাম যাই হোক আমি মহামানব না..! তবে হ্যা আমার মনে হয় বাবা মহামানব একজন..!

মায়ের কাছে শুনেছি তিনি আগে খালি পায়ে হেটে বেড়াতেন.. হালকা ভবিষ্যৎবাণী ও করেন তিনি.. এইতো শেষ যেদিন কথা হলো সেদিন বাবা বললেন আমার জন্য এবার ভালো একটা ফোন কিনে পাঠাবেন! তিনি আমার রুমমেটের ফোন নম্বর নিয়েছিলেন সেদিন.. কারণ তিনি হয়তো জানতেন তাঁর ভদ্র ছেলেটা ফোন হারিয়ে ফেলবে! এজন্যই ফোন কিনি নি.. মাকে তিনদিন আগেই ফোন হারানোর পর জানিয়েছি.. বাবা ফোন পাঠাবেন তাই আর কিনবো না তাও জানিয়ে দিয়েছি! গতকাল রাতে রুমমেটের কাছে ফোন আসে.. তাই এখানে আসা.. এখানে এসে থেকেই দেখছি বাইরে একটা কফিন রাখা.. অনেক সুন্দর কফিনটা.. কাছে যেতে ইচ্ছা করছিল.. এক অজানা টান কাজ করছিল.. কিছুক্ষন পর দেখলাম দুজন মানুষ কাস্টম অফিস থেকে বেরিয়ে আসলো..ওদের দেখে মাথা ঘুরতে শুরু করলো.. তারপর আবার কি জানি হলো আমার… শান্ত হয়ে গেলাম আমি! এগিয়ে গেলাম তাদের দিকে.. অস্পষ্ট গলায় উচ্চারণ করলাম ‘ফুপা?’ দেখলাম ফুফাতো ভাইটা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো! এগিয়ে গেলাম কফিনের কাছে! কফিনের উপর খুব সুন্দর করে বাবা র নাম লেখা!কান্না পেল না কেনো জানি! কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলাম! ভিতর থেকে রুমমেটও বের হয়ে আসলো। তার হাতে একটা বক্স!! ওর নাম্বার দেওয়া ছিলো!! তাই ওকেও আসতে হয়েছিল! এসব দেখে সেও স্তম্ভিত হয়ে গেল! সব থেকে স্তম্ভিত হলেন ফুপা! তিনি কিছুই মিলাতে পারছেন না! কিন্তু আমার মাথায় সেসব নেই! বাবার মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছা করছিলো!

ভাগ্যের নিয়তি দেখে অবাক হলাম আমি.. কেন জানি না পায়ের সেন্ডেল জোড়া খুলতে ইচ্ছা করছিলো!! মনকে শক্ত করলাম! আমি তো কোনো মহামানব না! বাস্তবতা মেনে নিতে হবে! অনেক চেষ্টা করেও আজ কাঁদতে পারলাম না! মা আর বোনদের কথাও মনে পড়ছে!! জীবনের শ্রেষ্ঠ মহামানবটাকে কবর দেওয়ার আগে মনে মনে নিজেকেও কবর দিলাম আজ!!

About the Author ইরফাতুল তাহমিদ

লেখালেখি করা আমার নেশা ! পেশা না.. লিখতে ভালোবাসি তাই লিখি। তবে স্বপ্ন দেখি এই লেখা দিয়েই মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার।

follow me on:

Leave a Comment:

1 comment
তানভীর এহসান
তানভীর এহসান says October 17, 2017

🙂

Reply
Add Your Reply