নীল গোলাপ

পাগলিটার সাথে পরিচয় দুই বছর আগে। প্রথমে বন্ধুত্ব পরে কি করে যে কি হয়ে গেলো।

ছেলেটা ভালোবেসে ফেলেছে নিজের অজান্তেই। কিন্তু সব তো সম্ভব হয় না। দুইজন ছিলো সমুদ্রের দুই তীরে। ভার্চুয়াল ছিলো বন্ধুত্বের বিষয়টা। পাগলিটা স্বপ্ন দেখতো ছেলেটার কাঁধে মাথা রাখার। ছেলেটারও ছিলো অনেক স্বপ্ন। কিন্তু তাদের মাঝে দুরত্ব ছিল যে অনেক। পাগলি টা বলেছিলো সে আসবে। দুই বছর পর সে ছেলেটার শহরে চলে আসবে। কাল সেই সুবর্ণ দিন। দেখতে দেখতে দুই বছর পার করে ফেলেছে তারা! বিশাল এক সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে তারা একজন অন্যজনের পথ চেয়ে! রাত এ ছেলেটা হঠাৎ ফোন দিয়ে পাগলিটাকে নিজের ইচ্ছার কথা জানায়! কলাপাতা রঙের শাড়ি খোলা চুলে কাজলরাঙা চোখদুটির সাথে কপাল এ ছোট্ট একটা টিপ পরা অবস্থায় দেখতে চায় পাগলিটাকে ছেলেটা। কিন্তু পাগলিটাও হার মানার পাত্রি না। সেও আবদার করে বসলো একটা নীল গোলাপের।

সেদিন সকালে গোসল করে ছেলেটার পছন্দমতই সাজলো পাগলিটা। আয়নায় নিজেকে আবিষ্কার করলো এক পরীর রূপে। যথাসময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছে গেল সে। কিন্তু কোথায়? ছেলেটা তো নেই। হঠাৎ শুনতে পেল সবাই বলছে একটা এক্সিডেন্টের কথা। সামনেই নাকি হয়েছে। একটা ছেলে মারা গেছে সেখানেই।। একটা মেয়ে আরেকটা মেয়ে কে বলতে বলতে পাগলিটার পাশ দিয়ে চলে গেল… যে ছেলেটার পাশে নাকি একটা নীল গোলাপ পড়ে ছিল। কথাটা শুনে পাগলিটা যেন যেন শ্বাস নিতে পারছিল না। মাথা ঘুরছিল তার। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছিলো। পাশের ফুটপাতে বসে নিয়তি দেখে নিজের অজান্তেই কান্না শুরু করলো। তখনই পাশ থেকে পরিচিত কন্ঠে কে জানি বলে উঠলো “ম্যাডাম? রুমাল?” রাস্তার সবাই এক মিনিটের জন্য থমকে গেল। একটা পাগলি একটা ছেলেকে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছে। ছেলেটা কি করবে বুঝতে পারছে না। তবুও তার কানের কাছে যেয়ে আস্তে করে বলল ” ভালোবাসি। কিন্তু জানো সামনে একটা এক্সিডেন্ট হইসে। ওখানে উঁকি মারতে যেয়ে হারিয়ে ফেলেছি গোলাপটা।” পাগলিটা কিছু বলতে পারলো না আজ। মনে মনে শুধু সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাল… ছেলেটার বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে।

 

About the Author ইরফাতুল তাহমিদ

লেখালেখি করা আমার নেশা ! পেশা না.. লিখতে ভালোবাসি তাই লিখি। তবে স্বপ্ন দেখি এই লেখা দিয়েই মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার।

follow me on:

Leave a Comment: