রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

eবেশ অবাক লাগছে আমি মানুষ আমার হাত পা কথা বলার শক্তি আছে। বোনের স্যার নাকি বলেছে মানবতাই পরম ধর্ম। আমার মা বাবা পড়াশোনা করেনি, তাই আমিও করেনি আসলে পড়াশোনা দিয়ে কি হবে? আমি দেখেনি স্কুলের ক্লাস কেমনে হয়। আমার ছোট ভাই তৌসিফ যেতো। বাবা জমিতে চাষ করতো, আর আমি আমাদের পুকুর আর গরু দেখাশোনা করতাম। আমার পিচ্চি বোন পরী, খুব চুপচাপ থাকে। মা পরীকে রেখে বাড়ির কাজগুলো করতে পারে কোনো সমস্যা হয়না। দুপুরে খবর পেলাম আমার বড় বোন মিমিকে মায়ানমার সেনাবাহিনীরা তুলে নিয়েগেছে। হয়তো মেরে ফেলছে গুলি করে বাবা খুজ করতে গিয়ে দশদিন হয়েযায় ফিরে আসেনা। আমরাই পৃথিবীতে অসহায়। নিজেদের মানুষ বলে পরিচিয় দিতে ভয় লাগে, আমার মা কঠিন পরীশ্রমী ও সাহসী আমাদের তিনভাই বোনকে বাঁচাতেই কঠিন সিন্ধান্ত। আমি তখনো অপেক্ষায় ছিলাম, বাবা আর বোন ফিরে আসবে আমরা নতুন বাঁচতে পারবো। মা আঙুল তোলে তৌসিফ আর পরীকে দেখালেন। আর বললেন তুই কি চাস? পাশের বাড়ির লোকগুলোর মতো আমরাও মারা যায়। আমি পরাধীন জীবনের মায়া অনেক আগেই হাঁরিয়েছি।

শনিবার ভোর সকালে ঘুম থেকে উঠতে বললেন। এই তাহসিন উঠ, তাড়াতাড়ি উঠ। কেন মা এতো সকালে কেন? কোনো কথা বলিস না। বাবা কথা বললে সেনাবাহিনীরা খুজ পেলে আমাদের নিস্তার নাই। আমরা বাংলাদেশে যামু। আমি মাকে প্রশ্ন করলাম মা বাংলাদেশ কোথায়? ওখানে কি আমাদের যেতে দিবে? চল উওর দিকে রওনা হবো বেঁচে থাকলে দেখবি তো। মা আমি যাবো না, আপু আর বাবা এসে আমাদের না পেলে কেমন হবে?বাবারে ওরা আসলে তো এসো দেড়ি করতো না। আমরা তো বেঁচে থাকি। আর কথা বলিস না। তৌসিফ রে কাধে নে, তৌসিফ কাধে চড়তেই পছন্দ করে। মা বাংলাদেশের মানুষকে আমাদের মেরে ফেলবেনা? মারলে তো পরে দেখা যাবে, আমরা চেষ্টা করি বেঁচে থাকার। রাস্তায় সাবধান বিমান ঘুরছে, আর কোথায় না বোমা রাখা আছে সাবধানে পা চালাবি। হটাৎ টের পেলাম একটা বিমান উড়ে যাচ্ছে মনে হলো সেনাবাহিনীর বিমান, আমার সমষ্ত শরীর ভয়ে কাতর হয়েগেছে। আজ রোহিঙ্গা বলে কি আমরা পৃধিবীতে মানুষ হয়েও পশুর সমতুল্য হচ্ছি। ওরা জবাই করে দেয়, গুলি ইচ্ছা মতো মেরে ফেলে। মরে যাবো এমন প্রস্ততি নিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়লাম। কালিমা পড়ে ভাগ্যিস বিমানটি আমার অস্তিত্ব টের পায়নি নাহলে এতোখনে ক্ষতবিক্ষত করে দিতো। তৌসিফ অন্যসময় এতো জ্বালায় না। আরাকান গ্রামে বলটি রাখা আছে আনা হয়নি সে খেলবে কেমনে এটাই বার বার জিঙ্সেস করছে। কঠিন রাস্তা জানোয়ারের ভয় আছে, ভাইকে বললাম বাংলাদেশে বল আছে আমরা খেলতে পারব। যদি বেঁচে থাকি। বাঁচবো না এটাই সিউর।

আমরা বের হওয়ার আগে কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম। কুকুরটি পিছন আসছিলো, কুকুর হটাৎ নাই হয়েগেলো টেরই পেলাম না। আমরা রাস্তায় খেয়ে খানিক বিশ্রাম নিয়ে হাটাহাটি করছি ১০ দিনের উপরে হাটছি। রাস্তাগুলো কঠিন, কাটাফুটে যায়। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁদামাখা রাস্তায় অর্ধেক হাঁরিয়ে যায়। মা টেনে তুলে এভাবেই নাফ নদীর কাছে চলে আসলাম। নদীতে ৪ ঘন্টা পর নৌকা আসলো ওরা কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি। আমাদের নিরাপদেই পার করে দিয়েছে। এখন হাটছি একটু নিরাপদে এখানকার ব্যবস্হা দেখে মনে হয়নি যে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। তবুও সংশ্রয় মন নিয়ে হাটছি, নতুন ঠিকানায় বাংলাদেশ!

কাল্পনিক গল্প রোহিঙ্গা এদেশে আসা অবলম্বনে
গল্পের আইডিয়া Zazafee টাইমলাইনের ছবি
#আরিয়ান
১ অক্টোবর ২০১৭

About the Author মিজানুর রহমান আরিয়ান

মধ্যরাতে জেগে থাকা বিচ্ছুদের একজন.....

follow me on:

Leave a Comment: