সে আসে, সে ডাকে

একটি মেয়ে আমার নাম ধরে ডাকছে।

সময়টা বিকেল।
আমি,পাপ্পু আর তানিক হাটঁছি। কান্দার রাস্তায়।
মেয়ের কন্ঠে আমার নাম শুনে পাশ ফিরে দেখলাম। ওরা দাড়িয়ে আছে সদ্য জমিন ভরাট করা বালুর মাঠে। হ্যা,আমাকেই ডাকছে।যে ডাকছে সে আমার বান্ধবী লিজা।তার সাথে আরো দুটা মেয়ে।একজনকে আমি চিনি!! আরেকজন অপরিচিত।

ইতস্ত করতে করতে ওদের কাছে গিয়ে দাড়ালাম। তিন জনই হাসছে। দীর্ঘ নীরবতা।কথা নেই।

আমি নীরবতা ভেঙ্গে কথা বললাম,
-কেমন আছিস?
-ভাল,তুই?
-চলছে।
তারপর আবার চুপচাপ।

লিজা অদ্ভুত প্রশ্নে আমি অপ্রস্তুত হলাম।

-আচ্ছা,তুই কি এখনো ওকে ভালবাসিছ?
বলেই তিনজন মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।আমি শ্বাস আর সাহস জুগিয়ে বললাম,
-ভালবাসি।এই প্রশ্নটা যদি শতযুগ পরও করিস তখনো বলব,ভালবাসি।

-দেখলি,বলেছিলাম না যে ও তোকে এখনো ভালবাসে আর সবার সামনে তা স্বীকারও করবে।
লিজা স্নিগ্ধাকে কথাগুলো বেশ গর্ব নিয়ে বলল।

স্নিগ্ধাকে আমি ভালবাসি। এখন রাগ-অভিমান
পর্ব চলছে।ফলে স্নিগ্ধার সাথে আমার দূরত্ব বেড়েই চলেছে।তবু হৃদয় যে নিকটতর হচ্ছে।

স্নিগ্ধা এবার মুখ খুলল।বেশ রাগী ভাব নিয়ে বলল,
-তোমাকে না নিষেধ করেছি সবার সামনে ভালবাসি না বলতে।
-আমি আসলে..
-কি আসলে? এই সামান্য কথাটা মনে থাকে আবার নাকি যুগ যুগ ভালবাসে।

আমি গভীর জলে পড়লাম।সত্যই তো! ও না করেছিল সবার সামনে ভালবাসি বলতে।কেন?কে জানে।

তারপরই সে আমাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই উল্ট দিকে দৌড়ঁ শুরু করল। তার বাড়ি একটু দূরেই।

আমিও তার পিছনে দৌড়াতেঁ লাগলাম।আর বলতে লাগলাম,

-আমি সরি। আর হবে না।প্লিজ শুন,একটু দাড়াঁও।

বলতে বলতে একটা বিদ্যুৎএর খুটির সাথে মাথা ধাক্কা খেল।

কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে দেখি চারদিকে অন্ধকার। মাথা জিম মেরে গেছে। আমি ঘড়ি দেখলাম। বেশ অবাক হলাম।রাত ৩:৪৬!!
আমি একটা কাঠালঁ গাছের সাথে দৌড়াতে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছি।

আকাশে চাদঁ জেগে আছে।আমার মতই একা।
অনেক্ষণ বসে আছি। চাদেরঁ আলো সিক্ত হচ্ছি।
স্বপ্ন।স্লি ওয়াকিং। শুধু মনে হচ্ছে,
এমন করে কেবল তুমি পার আমায় ঘরের বাহির করতে।তুমি পার।

About the Author মাইনউদ্দিন

আমি বিদ্রোহী রণক্লন্ত।

follow me on:

Leave a Comment: