ঋণমুক্তি

সাল ২৩১৭। বিজ্ঞান পরিচালক পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বাংলাদেশেই উল্কাপিণ্ডটিকে আঘাত করানো হবে।
তাছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন স্থান নেই।

সমুদ্রের যদি করা হয় তাহলে পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকা ডুবে যাবে। এমনি নদীর-নালার গতিপথ বদলে যেতে পাড়ে।
এন্টারটিকা মহাদেশে করা কথা ভাবাই যায় না। বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা এতটাই বৃদ্ধি পাবে যে তা আর রোধ করা যাবে না। মরুভূমি তো আর নেই। সেগুলোতে এখন গাছে ভরপুর। পৃথিবীর কার্বন শোষণ আর অক্সিজেন সরবরাহ হয়ে থাকে এগুলো থেকে। তাছাড়া বড় বড় দেশ তাদের প্রতিটা ইঞ্চি জমিকে এমনভাবে গড়ে তুলেছে যে সেখান আঘাত হানা মানে পৃথিবীকে পিছিয়ে দেয়া।সেখানে কয়েক হাজার কি:মি: মধ্যেই পারমাণবিক বোমার ভান্ডার।তাই উল্কাপিণ্ডটিকে এমন একটি স্থানে আঘাত হানাতে হবে যেটা না থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে কম ক্ষতি হবে।

আর সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে যোগ্য।
তার মানুষগুলো সবচেয়ে নির্বোধ। এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রে ডুবে আছে। এরা এতোই নিকৃষ্ট যে স্বদেশের প্রতি কোন মায়া নেই।বরং পৃথিবীর বোঝা হয়ে আছে সেই কবে থেকে। তারপাশে আছে সমুদ্র। মায়ানমার কিছুটা ধ্বংস হবে। ভারতের সাথে পশ্চিম বাংলার সম্পর্ক নেই। তারা বাংলাদেশের সাথে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতা চায়। এক ভাষার লোক বলে তারা হয়তো মিলে যেতে চায়। তাই ভারত সরকারের কোন আপত্তি নেই।

বিজ্ঞান পরিষদের প্রধান বসে আছেন তার ফোর্থ ডাইমেনশন কক্ষে। আগামীকালই বাংলাদেশের শেষ দিন। অথচ তার আদি পুরুষরা নাকি বাস করতো বাংলাদেশের আশেপাশে।
সে কোনদিন খোজঁ নেয়নি। আজ হাঠাৎ তার মনটা কেমন যেন বিষণ্নতায় ভরে উঠছে। কী হয়েছিল তাদের সাথে যে তারা পৃথিবীর বুকে চিরতরে হারিয়ে গেছে? আর সেই বা কেমন করে বেচেঁ রইলো? তার পরিবার যদিও সেই নৃ-তত্ত্ব নিয়ে কখনো ভাবে নাই।

হাঠাৎ সে তার কৃত্রিম ডিএনএ নিয়ে সার্চ দিলো ওয়ার্ল্ড হিউমেন বাইওলোজিক্যাল
ইনফরমেনশন সেন্টারে। তারপর সে যা দেখলো তাতে বিস্মিত না হয়ে পাড়েনি।

একটা ছবি। সেখানে মায়ের কোলো একটি শিশু,আরেকটি বাচ্চার পিঠে ছোট্ট একটি বাচ্চা। এদেরই মধ্যে ৮ বছরের বাচ্চার সাথে তার ডিএনএ সবচেয়ে বেশি ম্যাচ করতেছে। তার মানে সেই কী তার আদিপুরষ! তাদের এই হাল কেন?

তখন সে দেখলো ছবিটি Zazafee নামক একজন ফেসবুুক ইউজার আপলোড করেছিলো। তারিখ ছিলো ২০১৭। সে তার ফ্ল্যাশব্যাক প্রযুক্তি দিয়ে ২০১৭ তে ঘটা এই ছবির ঘটনাটি দেখতো থাকে। আর যতই সে পিছনে যায় ততই তার বুকটা থরথর করে কাপঁতে থাকে।
মায়ানমার নামক দেশটির সেদিনকার অত্যাচার ও নৃশংসতার পরিচয় পায়।

তার আদি পুরুষরা পলায়ন করেছে প্রাণ নিয়ে। আর তাদের জায়গা দিচ্ছে আজকের অসভ্য বাংলাদেশ। যার শেষ পরিণতি হতে যাচ্ছে আগামীকাল।

এদেশই সেই আট বছরের ছেলেটি বড় হয়। তার সন্তান কাজের জন্য চলে আসে মধ্যপ্রাচ্য। সেখান থেকে সে চলে আসে য়ুরোপে। আর ওদিকে মায়ানমার তার সব নাগরিককে ফেরত নিয়ে ধীরে ধীরে মেরে ফেলে।
অনেক মারা যায় বিভিন্ন দেশে। অনাহরে-অবহেলায়।

আর কেবল একটি রোহিঙ্গাই বেচেঁ গিয়ে আজ পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটির আদি পুরুষ!

চোখ দুটি জলে ভিজে উঠে তার। যে দেশটি এমন মহান,স দেশ নির্বোধই হবে। তারা সমুদ্রে ডুবে যায় বিশ্ব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের লোভের কাছে। আর দেশটির কেন এমন হলো তা বুঝতে পাকিস্তান,মায়ানমার আর ভারতই যথেষ্ট।

একদল বিজ্ঞানি যারা উল্কাপিণ্ডের গতিপথ বদলে দেবে সেখানে গিয়ে তিনি উপস্থিত। তাদেরকে তিনি বের করে দিয়ে নিজের হাতে দায়িত্ব তুলে নেন।আর মাত্র কয়েক মিনিট। সবাই অবাক ওনার অবস্থা দেখে। কিন্তু বিশ্বকে বদলে দেয়া এই মানুষটিকে না বলবার ক্ষমতা কারো নেই। উল্কপিণ্ডটি যখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করলো,তখন তার মধ্যাকর্ষণ বলকে সোজা মায়ানমারের সাথে জুড়ে দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। সে সেদিকেই ছুটতে থাকে। ধ্বংস করে দেয় একটি পাপিষ্ট ভূখন্ডকে।

সেদিনের পর এই মহান বিজ্ঞানী বাকিটা জীবন আড়ালে
থেকে তার আদি পুরুষের ঋণ শোধ করেত থাকে বাংলাদেশকে সাহায্য করে। একটি মহৎ জাতিকে তার পতনের হাত থেকে বাচাঁতে।

About the Author মাইনউদ্দিন

আমি বিদ্রোহী রণক্লন্ত।

follow me on:

Leave a Comment: