এখনো বন্ধু

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় ছোট্ট একটা প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখে কুড়িয়ে নিয়েছিল মাহিদ।পিঠে ঝোলানো ব্যাগের সবথেকে উপরের পকেটের জিপার খুলে সেখানেই রেখে দিয়েছিল।প্যাকেটটা তুলে নেওয়ার আগে বার কয়েক চারদিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হয়েছিল ওটা তুলে নিলে কেউ আবার দেখে না ফেলে।ওর ভিতরে কি আছে তা প্যাকেট দেখেই বুঝতে পেরেছিল।প্যাকেটের গায়ে চিপ্সের নাম লেখা থাকে আর চিপ্সের প্যাকেটেতো চিপ্সই থাকে।মাহিদ ভেবেছিল হয়তো পরে কাজে লাগবে। বাচ্চারা ছাড়া যে কেউ চিপ্স খেতে পারবেনা তাতো নয়।কিন্তু সে ভাবতেই পারেনি তার জন্য বিশাল এক ধাক্কা অপেক্ষা করছে। সে কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা নাবিলদের বাসায় চলে গেল।নাবিল মাহিদের বেশ ভাল বন্ধু।মাহিদকে মুলত নাবিলই যেতে বলেছিল। তা না হলে নাটোর শহর থেকে কোন দুঃখে সব কিছু ফেলে সে রাজশাহী যাবে।

মাহিদের মন অবশ্য রাজশাহীতেই পড়ে থাকতো সারাক্ষন। একদিন এমন ছিল রাজশাহীর অলিতে গলিতে ওর পদচারণা ছিল।পদ্মার পাড়ে কত বিকেল সে কাটিয়েছে তার কোন হিসেব নেই।তবে সেই সব দিনে মাহিদের পাশে নাবিল ছিলনা।নাবিলতো তখনো মাহিদের বন্ধুই হয়নি।তা বলে মাহিদ একাকী ঘুরতো না।ওর পাশে পাশে থাকতো ওর সব থেকে প্রিয় বন্ধু মিলন।মিলনদের বাসা রাজশাহীর শালবাগান পাওয়ার হাউস মোড়ের ওখানে।একতলা সিমসাম বাড়িটাকে দেখলে মাহিদের খুব ভাল লাগতো।মনে মনে ভাবতো বড় হলে ওরকম একটা বাড়িই সে করবে অথচ বাড়িটা ছিল সত্যিই সাদামাটা তবে ভিতরটা ছিল খুবই পরিপাটি। মিলনের ডাক্তার মা আর শিক্ষক বাবা বাসাটাকে খুব করে সাজিয়ে রাখতো।

নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী দেখতে গিয়েছিল মিলন এবং তার বাবা।সেখানেই মিলনের সাথে মাহিদের পরিচয়।মাহিদ তখন রাজবাড়ীতে একদল পযর্টককে গাইড হিসেবে সব কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছিল।বয়সে দুজন বেশ ছোট বড় হলেও বন্ধুত্ব হতে সেদিন খুব বেশি দেরি হয়নি।মাহিদই নিজে এগিয়ে গিয়ে মিলনকে বলেছিল এই ছেলে তোমার নাম কি?তুমিকি টিনটিন?তোমার চুলের স্টাইল দেখেতো মনে হচ্ছে সত্যিই তুমি টিনটিন।ওই কথাটুকু শুনে মিলন নামের কিশোর ছেলেটি খুবই খুশি হয়ে বলেছিল হ্যা আমিই টিনটিন।তার পর অন্য পযর্টকদের রেখে মাহিদ সেদিন মিলনকেই সময় দিয়েছিল। মিলনের বাবা তখন একাকী ঘুরে ঘুরে সারাটা রাজপ্রাসাদ দেখেছিল।তারতো তখন কোন চিন্তা ছিলনা। তার ছোট্ট ছেলেটা একটা বন্ধু জুটিয়ে খুব আড্ডা দিচ্ছে এটা তারও খুব ভাল লেগেছিল।তারপর একসময় বিদায়ের ঘন্টা বাজলো আর মাহিদ ওর কাছ থেকে মোবাইল নাম্বারটা রেখেদিল।সেটা ছিল ছোট্ট মিলনের বাবার নাম্বার অথবা মায়ের নাম্বার।

রাতে মাহিদ ছোট্ট করে একটা এসএমএস করেছিল ছোট্ট মিলনকে।সেই যে ঘুরতে গিয়ে যে ছেলেটির সাথে দেখা হয়েছিল বন্ধুত্ব হয়েছিল তাকে ম্যাসেজ দিল।কিছুক্ষণ পর মাহিদের ফোন বেজে উঠলো। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো মিলন নামের কিশোর ছেলেটির কন্ঠ।এর পর একে একে বাবা এবং মায়ের সাথেও কথা হলো অনেক। এভাবেই একটু একটু করে বন্ধুত্ব হলো।মিলনের ছিল আরো দুটো ভাই আর একটা বোন।তারা সবাই ছিল মিলনের চেয়ে ছোট।কিন্তু একটু একটু করে মাহিদের সাথে তাদেরও খুব ভাব হয়ে গেল।

নাটোরে মাহিদ এক বন্ধুর বাসায় থাকতো।ওর একটা আলাদা গুন ছিল এই যে ওর সব বন্ধুই বাকি সব বন্ধুকে চিনতো জানতো।ও কারো সাথে কখনো লুকোচুরি খেলতো না।কী এক পারিবারিক কারণে ও যে বন্ধুদের বাড়িতে থাকতো তারা ওকে বললো তুমি এখন অন্য কোথাও থাকো।সে তখন আর কি করবে ব্যাগ গুছিয়ে একটা মেসে গিয়ে উঠলো।তার পর কত ঘাটের জল কত ঘাটে জড়ালো কিন্তু মিলন নামের সেই কিশোর পরিবার আর মাহিদের মধ্যে বন্ধুত্ব আরো গাড়ো হলো। মাহিদ অনেকবার রাজশাহীতে ওদের বাড়িতে বেড়াতে গেল।মিলনের বাবা কোথাও মাহিদকে নিয়ে বেড়াতে গেলে পরিচয় করিয়ে দিত এ আমার বড় ছেলে মাহিদ।সবাই কত আদর করে কথা বলতো তা আজও মনে আছে ওর।

একদিন হঠাৎ করে কী যেন হয়ে গেল।মিলনের বাবা মা মাহিদকে বললো তুমি আর আমার ছেলে মেয়েদের সাথে মিশবেনা কথা বলবেনা।মাহিদ কিছুই বুঝতে পারলো না কেন এমনটি হলো। তবে তা বলে সে যোগাযোগ ছিন্ন করলো না। নানা ভাবে সে ওদের খোজ নিত।নাবিল ছিল ওই সব বিষয়ের মাধ্যম।নাবিল আর মিলন একই ক্লাসে পড়তো এবং মিলনের মাধ্যমেই নাবিলের সাথেও বেশ খাতির হয়েছিল মাহিদের। মাহিদ তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আর মিলন নামের কিশোর ছেলেটি ক্লাস সিক্সে পড়ে।মিলনের বাবা মা কি মনে করে মাহিদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল তার পর থেকে ওরও মন খারাপ থাকতো। তবে নাবিল সব সময় ওকে মিলনদের খোজখবর দিত।

৩১ মার্চ সন্ধ্যায় সেদিন মাহিদ গিয়েছিল রাজশাহীতে নাবিলদের বাসায়।কথা ছিল পরদিন নাবিলের জন্মদিনের উৎসব হবে।যাবার পথেই কাজলা গেটে সে কুড়িয়ে পেয়েছিল প্যাকেটটা।মাহিদের ব্যাগ ভর্তি ছিল জুস,চানাচুর চকলেটে।সব সে কিনেছিল নাবিলের জন্য।অথচ একদিন ওই ব্যাগ ভরা থাকতো মিলনের জন্য।মিলন ছাড়াতো সে রাজশাহী চিনতোইনা। তার রাজশাহীতে যাওয়া আসার সবইতো ছিল মিলনকে কেন্দ্র করে।আর সেই মানুষটিই অচেনা হয়ে গেল।

কুড়িয়ে পাওয়া প্যাকেটটা ব্যাগের পকেটে রেখে সে নাবিলদের বাসায় গিয়ে দেখলো নাবিল তখন কোচিং এ আর নাবিলের আম্মু শুধু বাসায়।তার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে মাহিদ বেরিয়ে গেল।বলে গেল শহরটা একটু ঘুরে দেখে আসি।সেই যে আসি বলে বের হয়ে সবে মাত্র পাওয়ারহাউস মোড়ে এসেছে ঠিক তখন কোথা থেকে যেন সামনে এসে হাজির হলো মিলনের বাবা।মাহিদকে হাত ধরে নিয়ে গেল একটা কোচিং সেন্টারে যেখানে নাবিল এবং মিলন দুজনই কোচিং করে।তার পর মাহিদের সামনে নেমে এলো ঘোর অন্ধকার।নানা কথার বানে সে জর্জরিত হতে লাগলো।মিলনের বাবা তাকে রাগত স্বরে বললো তোমাকে না বলেছি আমার ছেলে মেয়ের সাথে যোগাযোগ করবে না তার পরও কেন এসেছ কোন সাহসে এসেছ। তিনি সহ উপস্থিত সবাই কত যে কথা শোনালো তা কোন দিন মাহিদ ভুলতে পারবে না।

তাদের প্রথম কথা ছিল বয়সের এতো এতো ব্যবধান থাকার পরও কেন তুমি ওদের সাথে দেখা করতে চাও মেশো?পাশ থেকে একজন বললো এই ছেলেটি নিশ্চই ছেলে ধরা। বাচ্চাকাচ্চার সাথে ভাব করে তার পর ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেবে।যেন পালে হাওয়া লাগলো।উপস্থিত আরো অনেক মানুষ সেই কথাতে সায় দিয়ে যাচ্ছেতাই বলতে লাগলো মাহিদকে সে তখন নিশ্চুপ কারণ তার পক্ষেতো তখন কেউ নেই।এমনকি নাবিল এবং তার মাও না।এক ফাকে নাবিলের মা কেও ডেকে আনা হলো এবং তাকেও কথা শোনানো হলে কেন এই ছেলেকে আপনি বাসায় ঢুকতে দিয়েছেন।প্রভাবশালী না হওয়ায় তিনিও কোন প্রতিবাদ করতে পারলেন না। এবার নাবিলকে ডেকে বলা হলো মাহিদের ব্যগটা নিয়ে আসো চেক করা হবে সেখানে অস্ত্রটস্ত্র কিছু আছে কিনা কিংবা কোন নেশাটেশার কিছু আছে কিনা।

কথাটা শুনে মাহিদের অন্তর কেপে উঠলো।সে জানে তার কোন ভয় নেই কিন্তু আবার এও জানে যদি কেউ ব্যাগে ইচ্ছে করে কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে দোষি সাজাতে চেষ্টা করে তাহলে সবর্নাশ হবে।সে তখন সৃষ্টিকর্তার নাম নিতে থাকলো আর বলতে লাগলো হে খোদা যেন এমন কিছু না হয় যে মানসম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে।মাহিদ তার ছোট্ট বন্ধু মিলনের জন্য একটা উপহার নিয়ে গিয়েছিল সেটাও ছিল ব্যাগের মধ্যে।ব্যাগটা যখন আনা হলো মাহিদ অবাক হয়ে দেখলো ব্যাগের সব গুলো জিপার ছিড়ে গেছে অথচ একটু আগে সে যখন বাসায় ব্যাগটা রেখেছে তখন সেটা নতুন ছিল।কিভাবে ছিড়লো তা তার জানা নেই। সবার সামনে মিলনের বাবা ব্যাগটা খুললো দেখা গেল মাহিদ আসার সময় নাবিলের জন্য যেসব জুস চকলেট এনেছিল তা ছাড়া আর কিছু নেই। সব থেকে অবাক ব্যাপার হলো মাহিদ যে প্যাকেটটা কুড়িয়ে পেয়েছিল সেটা নেই!

তেমন কিছু না পেয়ে কিছু কড়া কথা শুনিয়ে সেই রাতেই রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়া হলো মাহিদকে।মাহিদ তখন কি করবে ভেবে না পেয়ে পরিচিত এক বড় ভাইকে ফোন দিল।তার পর রাতটুকু কাটানোর জন্য সেই বড় ভাইয়ের বাড়িতে চলে গেল।তাদের বাড়ি ছিল রাজশাহী শহর থেকে অনেক দূরে একটা অজপাড়াগায়ে। সেই যে রাজশাহী থেকে মাহিদকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো তার পর দীর্ঘ পাচ বছর সে রাজশাহীতে যায়নি।তা বলে সে কিন্তু তার সেই ছোট্ট বন্ধু মিলনকে ভুলে যায়নি।মিলনের জন্মদিন এলেই সে বাতাসের কানে কানে তাকে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে।সে বিশ্বাস করতো মিলনও নিশ্চই কোন দিন ওকে ভুলে যাবেনা।বন্ধুত্বে কোন খাদ ছিলনা বলেই এ বিশ্বাস তার ছিল।

ফেসবুকের কল্যাণে এক বিকেলে মিলন খুজে নিল মাহিদকে আর ইনবক্সে জানালো তোমার সাথে জরুরী কথা আছে ফোন নাম্বার দাও।মাহিদ ওকে ফোন নাম্বার দিল তার পর কত শত জমানো কথা হলো দুই বন্ধুর মধ্যে। মিলনের বাবার চোখরাঙ্গানীকে তোয়াক্কা না করে মিলন ঠিকই তার বন্ধুর সাথে যোগাযোগ রাখলো।যদিও মিলন ততোদিনে সেই ছোট্ট মিলনটি আর নেই সে অনেকটা বড় হয়েছে।

একদিন মিলন ফোন করে রাজশাহীতে যেতে বললো মাহিদকে।সে জানালো বাবা মা বাসায় নেই সুতরাং চলে আসো।ওর কথা সে কোন দিন ফেলে দিতে পারেনা তাই সোজা চলে গেল রাজশাহীতে।নতুন করে যে বন্ধুত্ব শুরু হলো তা আজও অটুট আছে।মিলন এখন রাজশাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে পড়ে আর মাহিদ সে থাকে সাভারের একটা আবাসিক এলাকায়।মাঝে মাঝে দেখা হয় দুই বন্ধুর।তবে দেখা না হলেও কথা হয় প্রায়ই।মিলন এখনো মাহিদকে খুব ভাল বন্ধু মনে করে। কখনো কোন কিছুর দরকার হলেই মাহিদকে ফোন করে আর সেও সাথে সাথে সেটা করে দেয়।ছোট্ট মিলন এখন অনেক বড় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পরও সে তার বাবা যেন দুজনের বন্ধুত্বের কথা জানতে না পারে তাই মাহিদকে বার বার সচেতন করে দেয়।ওদের মাঝে খুব অভিমান হলেও তা ক্ষণিকের ব্যাবধানেই মিলিয়ে যায় অজানায়।

বহু বছর পর মাহিদ জানতে পারে কাজলা গেটে কুড়িয়ে পাওয়া সেই প্যাকেটটা কিভাবে সেদিন ব্যাগের পকেট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল সেই ঘটনা।সেদিন মিলনের বাবা যখন বলেছিল মাহিদের ব্যাগটা নিয়ে আসো তল্লাশি করা হবে তখন ছোট্ট মিলন বুদ্ধি করে ওর বন্ধু নাবিলকে বলেছিল ব্যাগ খুলে চেক করে যদি এমন কিছু থাকে যা দেখলে মাহিদ ভাইয়ার ক্ষতি হবে তা সরিয়ে ফেলবি।সে জন্যই সেদিন ব্যাগের সব জিপার ছেড়া ছিল।খুব তাড়াহুড়ো করে চেইন খুলতে গিয়ে নাবিল সেদিন সব ছিড়ে ফেলেছিল।অনেকগুলো চিপ্স আর চকলেটের ভিড়ে সে যখন দেখলো অপরিচিত একটা প্যাকেট সে সাথে সাথে সেটা সরিয়ে ফেললো।সিগারেটের সেই প্যাকেটটা থাকলে আরো না জানি কত কটুকথা শুনতে হতো মাহিদের।

রাজশাহীতে মাহিদ যে কিশোর বন্ধুকে ফেলে এসেছিল আজও সে মনে মনে সেই বন্ধুটিকেই মনে করে রেখেছে যদিও বন্ধুটি এখন অনেক বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।প্যারিস রোডের ছায়াঘেরা পথে হাটতে হাটতে তার সব থেকে প্রিয় বন্ধু মিলনই তাকে বলেছিল বন্ধুত্ব এমনই যতদূরেই থাকি যতই কথা না হোক বন্ধুত্ব থাকবে অটুট।ওদের বন্ধুত্ব আজও অটুট আছে। জীবনের শেষ দিন পযর্ন্তু অটুট থাকবে মাহিদ অন্তত সেটাই বিশ্বাস করে।আর মিলনের বাবা মা?তারা কি জানে তাদের সেই ছোট্ট ছেলেটি বড় হয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া মানুষটিকেই আবার বন্ধু হিসেবে ফিরে পেয়েছে আরো স্নেহের ভান্ডার নিয়ে।কিংবা যদি জানতে পারে তাহলে কি বলবে?বন্ধুত্বের বন্ধন এতোটাই শক্ত যে ওসব ছোটখাট ঝড় নিয়ে ওরা তাই ভাবতে চায়না।

 

www.zazafee.com

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: