আমার কিছু বলার আছে – ৩

হোটেলে যে আপনাকে খাবার এগিয়ে দিচ্ছে তাকে আপনি বকশিস দিচ্ছেন। অথচ সেই একই হোটেলের ছোট্ট একটি ছেলে সবার আগে আপনার জন্য টেবিলটা সুন্দর করে মুছে দিচ্ছে,তার পর গ্লাসটা ধুয়ে পানি এনে দিচ্ছে এবং পানি শেষ হলে আবার পানি এনে দিচ্ছে এবং তার পর খাওয়া শেষ হলে সেই ময়লাগুলোও পরিস্কার করে আপনাকে আরো কিছুক্ষণ সুন্দর একটি টেবিলে বসে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। অথচ তার ভাগ্যে আপনার বরাদ্দ কোন অর্থ নেই। আপনি বরং তাকেই বকশিস দিচ্ছেন যে আপনার জন্য শুধু মাত্র খাবারটুকু এগিয়ে দিয়েছে।

আমি মনে করি বকশিস দিতে হলে ওই বাচ্চাটিকেই দেওয়া উচিত যে আপনি হোটেলে প্রবেশ থেকে শুরু করে আপনার প্রস্থান পযর্ন্ত আপনাকে সেবা দিয়েছে। আর মনে রাখবেন যে খাবার এগিয়ে দিয়েছিল তাকে ৫০টাকা বকশিস দিলেও মনে মনে সে অখূশি হয় আর ভাবে কৃপনের ঘরের কৃপন আপনি। অথচ যে শিশুটি আপনার টেবিলটা মুছে দিল,আপনার গ্লাসটা ধুয়ে পানি দিল এবং বার বার পানি দিতেই থাকলো আর সবার শেষে খাবারের টেবিলটা আবারও মুছে দিল তাকে যদি আপনি মাত্র ৫টা টাকাও ধরিয়ে দিতেন তবে সে যতটা খূশি হতো ততোটা খুশি আপনার আমার বাবা মা আমাদেরকে ১ হাজার টাকা দিলেও আমরা হতে পারিনা।

আসুন পরিবর্তন আনি। ভালবাসি তাদের যাদের ভালবাসার কেউ নেই। অন্যরা ওই বেয়ারাকেতো নিয়মিত বকশিস দিচ্ছেই আসুন আমি আপনি বেয়ারাকে বকশিস না দিয়ে ওই ছোট্ট টেবিল পরিস্কার করা ছেলেটিকে দুটো টাকা হলেও বকশিস দেই।

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: