আমার কিছু বলার আছে – ২

ফ্রিল্যান্সিং করে আয়,তাও গ্রামে বসে!

গ্রামে যেখানে কম্পিউটার নেই, ইন্টারনেট নেই সেখানেওকি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করা সম্ভব?

প্রশ্নটা কেউ আমাকে করেনি বরং আমি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে তার উত্তর দিতে চেষ্টা করেছি। এবং সত্যি সত্যিই আপনি অবাক হবেন যে আমি নিজেকে এর উত্তর হ্যা দিয়েছি।আমি মনে করি গ্রামে যেখানে কম্পিউটার নেই, ইন্টারনেট নেই, সেখানে বসেও আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন।

সবার আগে একটু গভীর ভাবে ভেবে দেখুন ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি?

আমাদের সমাজে প্রচলন হয়ে গেছে ফ্রিল্যান্সিং মানেই ঘরে বসে কম্পিউটারে অন্য কারো গ্রাফিক্সের কাজ করা, নয়তো ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট করা। কিন্তু আদতে কি তাই?

আমি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি আমার নিজের মত করে বুঝি বা বুঝতে চেষ্টা করি।আমি এটার নিজস্ব একটি সংজ্ঞা দাড় করাতে চেষ্টা করেছি। আমার মতে ফ্রিল্যান্সিং হলো কোন নির্দিষ্ট কর্মে কিংবা চারদেয়ালে বাঁধা না থেকে অন্যের হয়ে নিজের মত করে কিছু করা। বিষয়টি আপনাদের কাছে ক্লিয়ার হলো কিনা জানিনা তাই আরো একটু খোলাসা করে বলি।

কেউ একটা বার্গার কিনে আনতে চায় আপনি তাকে দোকান থেকে একটা বার্গার কিনে এনে দিবেন বিনিময়ে বার্গারের দাম নিবেন,যাওয়া আসার ভাড়া নিবেন এবং সাথে পারিশ্রমিক নিবেন এটাই হলো ফ্রিল্যান্সিং। কম্পিউটার ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে ফ্রিল্যান্সিং করা হয় সেটাও এমনই।

কোন কোম্পানী একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চায় আপনি বিড করে সেটা তৈরি করে দিবেন বিনিময়ে খরচের টাকার বাইরেও অতিরিক্ত কিছু টাকা নিবেন সেটাকে আপনি ফ্রিল্যান্সিং বলতে পারলে বার্গার কিনে এনে দেওয়াটাকেও অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং হিসেবেই মানতে হবে। কারণ বার্গার কিনে এনে দিয়ে আপনি তখন অন্য কোথাও অন্য কারো অন্য কোন কাজ করতে চলে যেতে পারবেন।

এবার আসুন গ্রামে বসে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবেন তার একটা চিত্রায়ন করি।আপনি খোঁজ নিয়ে দেখুন আপনার গ্রামের কোন কৃষক কি কি ফসল উৎপাদন করছে, কি কি সবজি চাষ করছে। এর পর দেখুন বাজারে কি দামে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে। এখন আপনি কৃষকদের কাছে গিয়ে বলুন তাদের ওই পন্য আপনি নিজে বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিবেন বাজারের রেটে।

অর্থাৎ বাজারে মরিচের কেজি ৫০ টাকা হলে আপনিও ওই কৃষককে ৫০ টাকাই দিবেন, বিনিময়ে আপনি কৃষককে বলবেন এই বিক্রি করে টাকা এনে দেওয়া বাবদ আপনাকে কিছু সম্মানি দিতে। আপনি তাকে বুঝাবেন যে আপনাদের কাউকে কষ্ট করে বাজারে যেতে হবেনা এসব বিক্রি করতে। আপনি নিজেই সবার সবজি,ফসল বিক্রি করে টাকা পৌছে দিবেন, বিনিময়ে তারা আপনাকে প্রতিটি পন্য বাবদ একটা ছোট্ট অ্যামাউন্ট দিবে।

এ জন্য আপনি একটা ভ্যানওয়ালার সাথে চুক্তি করতে পারেন এবং সেই ভ্যানটাকে কিছুটা ডেকোরেশান করে অনেকটা লরির মত ঘিরে নিন এবং তার দেয়ালে সুন্দর কিছু নাম এবং আলপনা করুন। তার পর রোজ সেই ভ্যানওয়ালাকে সাথে করে কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার উৎপাদিত সবজি বাজারে নিয়ে পাইকারী বিক্রি করে দিন এবং কৃষককে টাকা বুঝে দিয়ে তার থেকে পাওনা টাকা নিন। খুব সামান্য করে হলেও দেখবেন আপনার অনেক আয় হচ্ছে। আয় হওয়ার পর যদি মনে করেন বুদ্ধিটা জাজাফী দিয়েছিল তাকে কিছু গিফট পাঠানো উচিত তাহলে সেটা আমার গ্রহণ করতে আপত্তি নেই!!! (সুযোগে একটু নিজের বিজ্ঞাপন দিয়ে নিলাম)।

আপনি ভেবে দেখুন শুরুতে কৃষক আপনার কথায় রাজি হবেনা কারণ তারা বলবে তাদের পন্য তারা নিজেরাই বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে পারবে। তখন আপনি বলবেন যে বাজারে যে রেটে বিক্রি হচ্ছে আমি নিয়ে বিক্রি করেতো আপনাকে সেই রেটই দিচ্ছি।এতে করে আপনার পরিশ্রম এবং সময় দুটোই বেচে যাচ্ছে। সেই একই সময়ে তখন আপনারা অন্য কোন কাজ করতে পারবেন।

এভাবে আপনি নিজের মত করে কথা সাজিয়ে তাদের কাছে উপস্থাপন করেই দেখুন কাজ হবেই। মনে রাখুন জাজাফী যে আইডিয়া দিচ্ছে সেটা পিকুলিয়ার হলেও বাংলাদেশে আগে কেউ এই ধরনের আইডিয়া আপনাকে দেয়নি।

আপনি জানেনকি যা কিছু নতুন তাই ভবিষ্যতে কাযর্করী হবে বলে ভেবে রাখুন।

যারা গ্রামে আছেন তাদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। শুরু করুন দেখবেন সফলতা আসবেই।

 

www.zazafee.com

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: