আমার কিছু বলার আছে – ১

বাংলা বানানে চন্দ্রবিন্দু আর হ্রস ই কার এবং দীর্ঘ ইকার এর ব্যবহার বেশ বিরক্তিকর।এই দুটোতেই বেশি ভুল হয়। বিশেষ করে চন্দ্রবিন্দু না থাকলে কি এমন ক্ষতি হতো এখনো বুঝতে পারছিনা। আর দীর্ঘ ইকার অথবা হ্রস ইকার যে কোন একটা ব্যবহার করলেইবা কি ক্ষতি হতো খুব একটা মাথায় ঢুকছেনা। চাঁদ লিখতে চন্দ্রবিন্দু দিতেই হবে কেন? না দিলে কি কেউ বুঝবেনা যে ওটা চন্দ্রের কথাই বলা হচ্ছে। পরীক্ষা কিংবা পরিক্ষা যেটাই লিখিনা কেন মানুষকি বুঝবেনা যে ওটা এক্সামের কথা বলা হচ্ছে?

বাংলা বানান সব থেকে জটিলতায় ভরপুর। ইংরেজীতে যদি Live বানানে কোন পরিবর্তন না এনেই অনেক কিছু বোঝানো সম্ভব তাহলে বাংলাতে চাঁদ না লিখে চাদ লিখে কিংবা পরীক্ষা/পরিক্ষা যে কোনটি লিখে কেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বুঝানো সম্ভব হবেনা তা আমার বোধগম্য নয়।

অন্যদিকে ভুল বানানে দীর্ঘুকার দিয়ে ভূল লিখলে সেটা কেন অশুদ্ধ হবে কি জানি। এই বানানটায় অনেক ভুল হয়। এখন কথা হলো যদি দীর্ঘুকার দিয়েই এভাবে ভূল লিখি তাতে সমস্যা কি? বাকিরাতো ঠিকই বুঝবে যে এর মানে বোঝানো হচ্ছে wrong বা Fault।

তাছাড়া উচ্চারনের সময় দীর্ঘুকার আর হ্রসুকারের খুব একটা ব্যবধান থাকেনা। একই ভাবে দীর্ঘ ইকার এবং হ্রসইকারের উচ্চারণের সময়ও পার্থক্য থাকেনা খুব একটা। হতে পারে উচ্চারণের স্থান ভিন্ন কিন্তু যে শব্দ উৎপন্ন হয় তাতো একই থাকে। পরীক্ষা না বলে পরিক্ষা উচ্চারণ করলে কারো কি সাধ্য আছে সে বুঝবে যে আমি দীর্ঘইকার দিয়ে উচ্চারণ করেছি নাকি হ্রসইকার যোগে উচ্চারণ করেছি। অবশ্য চন্দ্রবিন্দু যুক্ত শব্দ উচ্চারণ করলে কিছুটা পার্থক্য বুঝা যায়।

বানানের এই সব জটিলতায় কাহিল হয়ে যাচ্ছি। আর হ্যা আমাদের এতো এতো ভাষাবিদ থাকতেও এখনো অনেক শব্দের কোন বাংলা পরিভাষা আমাদের কারোর জানা নেই। নতুন নতুন শব্দ তৈরি করা হোক।

 

www.zazafee.com

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: