বিতর্ক আয়োজন ও বিতর্কিত ভাবনা

মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র ! প্রতিনিয়ত আমরা পরিচিত হই নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সাথে। আজ যখন লেখাটা লিখছি নানা কারনে মনটা খারাপ। এবার পদ্মায় ডুবলো লঞ্চ ! কত সহজ মানুষের জীবন, মুহুর্তের মধ্যে হারিয়ে গেল কতগুলো প্রাণ !!!

 

হ্যা, আমাদের সবার ই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কখন কে যাবো তা নির্দিষ্ট করে কেঊ বলতে পারে না। নিজেদের ছোট এই জীবনে আমরা কত কিছু ই না করি। এর মধ্য খাওয়া-দাওয়া আর ঘুম ই তো নিয়ে নেয় অর্ধেকটা সময় ! ঘুমিয়ে ঘমিয়ে কত স্বপ্ন ও দেখি ! কিন্তু কিছু মানুষ আবার এই স্বপ্নের জন্য ঘুমাতে পারে না !! স্বপ্নের রাজ্যে যাওয়ার জন্য ছুটে বেড়ায় দিনের পর দিন। আমরা যারা বিতর্ক করি, তারা বিতর্ক নিয়ে হয়ত অনেক স্বপ্ন দেখি, কিন্তু আমার কেন যেন বিতর্ক সংগঠকদের স্বপ্নগুলোকে একটু পাগলামী মনে হয় ! কি আছে এখানে ? একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে অনেক দৌড়াদোড়ি করে যে অর্থ পাওয়া যায় তাতে তো আর একবেলা বন্ধুদের নিয়ে খাওয়ার টাকাও বাচানো যায় না। তাহলে এখানে কেন এত সময় বিনিয়োগ ??

 

ইদানিং বিতর্ক অঙ্গনে যত সংগঠন আছে তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে- কোন সংগঠন কত বড় অনুষ্ঠান করতে পারলো তা নির্ধারণ হয় কত যৌলুশপুর্ণ আয়োজন দেখে কিংবা কতগুলো দল আসলো তা দেখে। একটি ক্লাব থেকে ৪টি পর্যন্ত দল নেওয়া হয়। কিছুদিন আগে দেখলাম ফাইনাল বিতর্ক করছে একই ক্লাবের ২টা দল। কিন্তু কেন? টুরনামেন্ট এ এতগুলো দল নিয়ে বিতর্ক করলে ই কি আর বিতর্কের মান বেড়ে যায়? আমি একটি ক্লাব থেকে একটি দল এই নীতিতে বিশ্বাস করি। এতে মনে হয় Team Cap কম হলেও আয়োজনটা ভালো হবে। বিতর্কের মানও ভাল হবে!

 

কিছুদিন আগে একটা ছেলে ফোন করে বলল ভাইয়া আমি মানারাত থেকে বলছি… সামনে আমাদের National, একটা স্পন্সর ম্যানেজ করে দেন …please… । আমি নানা কাজে ব্যস্ত, কয়েকটি করপোরেট হাউসের নাম ছাড়া কোন সহযোগিতা ই করতে পারলাম না ! ওরা আমাকে অনেকবার ফোন করেছে। প্রতিবার কথা বলার সময় আমি ওদের চোখে স্বপ্ন পুরনের আগুন দেখেছি… আর ভেবেছি তোমরা পারবে- অবশ্যই পারবে…। দিনরাত ছেলেগুলো পরিশ্রম করেছে। আমি ওদের ফেছবুক স্ট্যাটাসগুলোও নিয়োমিত দেখেছি- ওদের আবেগ আর স্বপ্ন পূরণের যন্ত্রনা দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। তোমরা পারবে অনেক অনেক দূর যেতে, আগামী দিনে হয়ত তোমরা ই হবে বিতর্ক অঙ্গনে নেত্রিত্ব দেওয়া সংগঠন গুলোর মধ্যে একটা। কিন্তু আমি তোমাদের সরাসরি ই বলতে চায়- একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার সাফল্য কিন্তু কত ভালো crest দিতে পারলাম, উপহার সামগ্রী দিতে পারলাম কিংবা Debaters’ Night করতে পারলাম তার উপর নির্ভর করে না। বরং বিতার্কিকেরা তাদের যুক্তিগুলো যথাযত ভাবে তুলে ধরতে পারলো কিনা এবং সেগুলোর উপযুক্ত বিচারকার্য এবং ফলাফলের উপর নির্ভর করে। অবশ্য ইদানিং বিতার্কিকেরা কিছু হইলেই ঘটনা না বুঝে ফেসবুক স্ট্যাটাস এ ভরিয়ে দেয়। প্রত্যেকের যার যার নিজশ্ব জায়গায় সচেতন হওয়া উচিত। অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্বই করা উচিত। কিন্তু সেটা তো আগে Justify হতে হবে যে আসলেই ঘটনা কি হয়েছিল! ঘটনার আংশিক বা কোন অংশ না জেনে  কিছু বলে ফেলার আমাদের অনেকের হয়ত অভ্যাস আছে কিন্তু আমরা যারা বিতার্কিক তাদের কি এটা মানায়? বিতার্কিকেরা অন্তত সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলবে আশাকরি। এক্ষেত্রে এই অংগনে জড়িত সবার ই সমান দায়িত্ব আছে। আমাদের কথা ও কাজ দিয়ে হয়ত যে কাউকে ছোট করতে পারি, অনেক অপমানও করতে পারি কিন্তু তাতে কি নিজেরা বড় হওয়া যায়? আর যদি কারো এই অংগনে কোন মহাপুরুষ কিংবা ডন হওার ইচ্ছা থাকে তাহলে তো আপনার বিবেক বর্যিত কোন কাজ দিয়েও তো তা সম্ভব না !

 

আমি বরং বিশ্বাস করতে চায় একজন সংগঠক যখন একটি আয়োজন করে তার সমস্ত ভালোবাসা নির্যাস থাকে এখানে। একজন বিচারক তার অনেক মুল্যবান সময় এখানে দেন এবং একজন বিতার্কিকের অনেক স্বপ্ন থাকে আশা থাকে ভালোবাসা থাকে… সবার জায়গায় সবায় দায়িত্ববান হতে হবে- নিজেদের কাজগুলো সঠিকভাবে করলে একটি আয়োজন এমনিতেই সাফল্যমন্ডিত হবে। ক্ষনিকের এই পৃথিবীতে যত দিন আছি একটু ভালো থাকার চেস্টা করলেই আমরা সবায় ভালো থাকতে পারব আশাকরি। যুক্তির মানুষগুলো আসলে ই যুক্তির সাথে থাকুক এই আশা ব্যক্ত করে শুভকামনা জানায় মানারাত ডিবেটিং ক্লাব কে।

About the Author কামরুল হাসান

একজন সাধারণ মানুষ যে তার পছন্দ মত কাজ করতে ভালবাসে।

follow me on:

Leave a Comment: