বেঁচে আছে হৈমন্তী

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “হৈমন্তী” গল্পের হৈমন্তীর কথা মনে আছে? যান্ত্রিক সভ্যতার এ যুগে সব ভালবাসার সম্পর্কগুলো যখন ফরমালিনে আক্রান্ত তখনও বেঁচে আছে হৈমন্তীর ভালবাসা। হৈমন্তী এখন শহরে থাকে। কিছুটা আধুনিকতা স্পর্শ করেছে হৈমন্তীকে।

 

এখন ফেইসবুক,টুইটার চালায় সে। অপু বেচারাও পিছিয়ে নেই। সত্য ভালবাসার টানে সোডিয়াম বাতির এ শহরে হৈমন্তীকে অনেক মানুষের ভিড়ে ঠিকই খুঁজে পেয়েছে সে। হৈমন্তীর সাথে কথা হয় মাঝে মাঝে ফোনে, ফেইসবুকে। অপুর প্রতি হৈমন্তীর অভিমানটা আজ অবধি বেঁচে আছে।

 

এখনো অভিমানে সে নির্বাক আকাশে চেয়ে থাকে মন খারাপের রাতে। কিন্তু, আজকাল আকাশটাকে নির্বাক পাওয়া খুব কঠিন। লাল, নীল বাতিওয়ালা বিমানের চলাচল খুব। বিমানের শব্দটা বড্ড বাজে। মাথা ধরে আসে হৈমন্তীর। মন খারাপের রাতে জেগে থাকে পুরনো সেই রুপোলি চাঁদটা। অনেক কৃত্রিম আলোর ভিড়ে চাঁদের আলো হারিয়ে যায় এখানে।

 

অভিমানের বেলা শেষে হৈমন্তী প্রায় অপুকে বলে, “সোডিয়াম বাতির এই শহরে আর থাকব না অপু। ফিরে যাব দূরে বহু দূরে, শ্যামলছায়ায় কোন এক গাঁয়ে। ও গাঁয়ের মেঠোপথে তোমার হাতটা ধরে হেঁটে যাব অনেকটা পথ। তোমার উপর অভিমান হলে উঠোনে বসে কথা বলবো আকাশের সাথে। যেখানে এ শহরের কোলাহল থাকবে না। রাত যেথায় জেগে থাকবে জোনাকির আলোয়।”

 

বেঁচে থাকুক হৈমন্তীর সেই অভিমান আর সত্য ভালবাসা। তাহলে বেঁচে থাকবে অপু। বেঁচে থাকবে হৈমন্তী আর তাদের ভালবাসা।

About the Author আল-আমীন আপেল

শ্বাসের আশায় ছাড়ি নিঃশ্বাস..

follow me on:

Leave a Comment: