বিশ্ব নারী দিবস ও কিছু কথা

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চীর কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর” কাজী নজরুল ইসলামের কথাটির তাৎপর্য অনেক। নারী মুক্তির জন্য নারী স্বাধীনতার জন্য যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে নারীরা আন্দোলন করে যাচ্ছে এমনকি আজকের দিনেও। সেই সব নারীদের সাথে অনেক পুরুষও সহমত পোষণ করে তাদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছেন। আজ বিশ্ব নারী দিবস। মনে পড়ছে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার কথা। (সারা জীবন নারী শিক্ষার জন্য তিনি যা করেছেন তার বিনিময়ে ওনাকে হাজারটা নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত কিন্তু উনি নোবেল পুরস্কার পান নি বা পাবেন না সেটা দেওয়া হবে মালালার মত কাউকে যার নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে কতটা অবদান তা আমার ঠিক বোধগম্য নয়!)।

 

আগের সেই দিন আর নেই। এখন সময় বদলে গেছে। নারীরা এখন সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের ১৯টি দেশের সরকার প্রধান নারী। এই ধারা অব্যাহত আছে ইসলামী রাষ্ট্র গুলোতেও। তারাও এখন নানা ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

 

বাংলাদেশ তুলনা মূলক ভাবে নারী অগ্রাধিকারের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম। শুধু মাত্র নারীদের জন্য সম্প্রতি একটি সেনানিবাস করা হয়েছে। এবং নারী সৈনিক নিযোগ শুরু হয়েছে।

 

মেরি কুরি থেকে শুরু করে এলিনর অষ্ট্রম যারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছে তাদের অবদানের জন্য। নিশাত মজুমদার বা ওয়াসফিয়া নাজরিনরা এভারেষ্ট জয় করেছে। কোথায় নেই নারী। হলিউডের অ্যাঞ্জেলিনা জোলির কথাই যদি বলি তো তার সিনেমাতে কোন নায়ক দরকার হয়না সে একাই যথেষ্ট। খেলাধুলাতেও নারীরা কোন দিক থেকেই পিছিয়ে নেই। ইলিয়েনা ইসিনবায়েভা যাকে পোলভোল্টের রাণী বলা হয় কিংবা সেরেনা উইলিয়ামস থেকে শুরু করে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটার যে বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন।

 

আজ নারীদের জয় জয়কার। সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে নারীদের সেই অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। নারীরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে পদদলিত হচ্ছে অবহেলিত হচ্ছে যা আমরা সবাই দেখছি। আমাদের বোন আমাদের নারীরা পথ ঘাাটে খুব বেশি নিরাপদ নয়। পথে ঘাটে তারা ইভ টিজিং এর শিকার হচ্ছে। কারা টিজ করছে? আমাদের মতই দেখতে কিছু কুলাঙ্গার পুরুষ যাদের বাড়ীতে হয়তো মা বোন নেই।

 

এর বিহীত হওয়া দরকার। নারীকে সম্মান দিতে হবে।

 

তবে সব কিছুর জন্য কিছু শুধুই পুরুষ দায়ী নয় বরং নারীও দায়ী। বলা হচ্ছে সমান অধিকারের কথা বলেও নারীদের সমান অধিকার দেওয়া হচ্ছেনা এটা ভুল তথ্য। কোন কোন ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছে। যেমন স্কুল কলেজ এমনকি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে রয়েছে নারীদের অনেক বেশি সুযোগ। যেখানে নারী এইস এস সি পাশ হলেই হচ্ছে সেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে লাগছে বিএ পাশের সনদ। (একজন এইস এসসি পাশ নারী কি একজন বিএ পাশ পুরুষের সমান দক্ষ বা শিক্ষিত? কিংবা একজন এইস এস সি পাশ পুরুষ কি কখনো একজন বিএ পাশ নারীর সমান হতে পারে? আপাত দৃষ্টিতে তা সম্ভব নয়) তার পরও সেটা হচ্ছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি পরীক্ষাতেও স্পেশালী নারী কোটা আছে, বাসে স্পেশালী নারী আসন আছে। মানে অন্য সব আসনেতো তারা বসতে পারবেই আবার আলাদা ভাবে নারী আসন গুলোও তাদের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু কোন পুরুষ আসন নির্ধারিত নেই। জাতীয় সংসদেও ৫০টি আসন সংরক্ষিত নারীদের জন্য। তাই অবশ্যই আমরা নারীদের অধিকার দিচ্ছি এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি।

 

তবে হ্যা নারীদের প্রতি যে আচরণ দেখা যাচ্ছে তার জন্য কিছুটা অংশে নারীও দায়ী। নারীকে তার সম্মান বজায় রেখে চলতে হবে। উগ্রভাবে চললে উগ্র মানুষের চোখে পড়বেই আর তারা বাজে ভাবে টিজ করবে।

 

কর্ম ক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে এবং নারীকেও সে ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান কি তা মনে রেখে চলতে হবে।

 

মাদার তেরেসাওতো নারী ছিলেন কিন্তু তিনি সবার কাছে সমান ভাবে সম্মানিত আবার তাসলিমা নাসরিনও নারী যিনি অধিকাংশের কাছেই অগ্রহনযোগ্য। তাই আশা করবো বিশ্বের সব নারীই তার নিজের চিন্তা চেতনাকে কাজে লাগিয়ে সঠিক ভাবে এগিয়ে যাবে।

 

আর পুরুষ সমানের জন্য কথা হলো একটা বিষয় মনে রাখবেন “যে নারী মাতা,ভগিনী,কন্যা,সহধর্মীনি এবং সহপাঠী ও প্রিয় জন” তার সম্মান রাখা আমাদের দায়িত্ব।

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: