অকম্য দা আর প্রেম করবে না

 

অকম্যদা আমাদের পাশের বাসায় থাকেন। যদিও তার ভালো নাম আবুল, তবুও তার কিছু কাজের জন্য আমাদের এলাকার সবাই তাকে ‘অকম্য’ বলেই ডাকে, আর বয়সে বড় হওয়ায় আমরা ডাকি ‘অকম্য দা’। অকম্যদার কাজ কম্য সবই হাস্যকর, যেমন একদিন তাকে বলা হলো হাঁস নিয়ে আসতে, সে হাঁসের বদল বাঁশ নিয়ে হাজির। আবার একদিন অকম্যদার প্রেমিকা বিশ টাকা ধার চেয়েছে, অকম্যদা তাকে বিষের বোতল এনে ধরিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ এই অকম্যদার একদিন ইচ্ছা জাগলো প্রেম করার। এসেই আমাদের বলা শুরু করলো, ‘এ তোরা আমার জন্য একটা মাইয়া দেখতো, প্রেম এইবার করমুই করমু।’ আমরাও তো হাসিতে গুটিগুটি হতে শুরু করলাম, কেননা অকম্যদা এপর্যন্ত ১১০ জনকে প্রপোজ করেছে, থাপ্পড় খেয়েছে ১১১ টা (১১০ জন মেয়েই থাপ্পড় মারছে, আর একজনের বয়ফ্রেন্ড মারায় সংখ্যাটা এক বেশি), তবুও ৭ জন অতিকষ্টে পরবর্তীতে অকম্যদার সাথে প্রেম করেছিল। কিন্তু সেই কাহিনীও বড়ই কষ্টকর। কেননা অকম্যদার প্রেম ১ মাসের বেশি টেকেই না, সবাই অন্য শহরে কিংবা গ্রামে চলে যায়। অকম্যদার প্রেমিকা হারিয়ে গেলে তথা অন্য কোথাও গেলেই আমরা বলতাম, ‘অকম্যদা! এবার অন্তত ভাবীকে খোঁজো।’ সেই শুনে অকম্যদা হাসতো আর বলতো, ‘আরে আমি কি মজনুহ নাকি যে, প্রেমিকা হারাইলে তাকে খুঁজবো? আমি হলাম আবুল, একটা গেলে আরেকখান নিয়ে আসাই আমার কাজ’। বার বার বলেও অকম্যদাকে দিয়ে তার প্রেমিকাকে খোঁজানো সম্ভব হয় নি। সেই অকম্যদা আবার জেদ ধরেছে প্রেম করার, না জানি আরো কতজনের থাপ্পড় খেতে হবে, না জানি এটা কোথায় হারিয়ে যাবে। পরদিন সকালে, অকম্যদা এসেই আমাকে বললো, ‘ভাই আবির! আমার একটা কাজ করে দিবি প্লিজ।’ আমি সান্তনার স্বরে বললাম, ‘আরে ভাই, তুমি আমার বড় ভাই, আমি তোমাকে সাহায্য করবো না? এটা হয় নাকি। বলো কি করতে হবে?’ অকম্যদা এবার বেশ খুশিখুশি ভাবে বললো, ‘ওই যে পাশের বাড়ির টুনি নামের একখান মাইয়া থাকে। ওর লগে আমার জোড়াটা যদি একটু লাগায় দিস, ভাই আমার। তোর তো ওদের লগে ভালো সম্পর্ক।’ টুনি নামটা শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। শালা, এই দুনিয়ার কি আর মেয়ে নাই? শেষমেশ আমার পছন্দের মেয়েটাকেই! যাকে ২ বছর ধরে ভালোলাগে, কিন্তু সাহসের অভাবে বলা হয় না। যাই হোক বড় ভাই হয়, আর আমি সাহায্য করার অঙিকার করেছি। তাই বললাম, ‘আচ্ছা, আজ তাকে ফলো করে যাবো। তুমি কোচিং এর সামনে তাকে প্রপোজ করবা।’ যেই কথা সেই কাজ। কোচিং পর্যন্ত গিয়ে মেয়েটাকে ডাকবো, এমন সময় অকম্যদা বলল, ‘ভাই! ভয় করছে, আমার হয়ে তুই বলে দে, আবুল তোমারে খুব ভালোবাসে।’ আমি সাহস নিয়ে গেলাম টুনির সামনে। কিন্তু কাছে যেতে কিছুটা ভয় করছিল। ভয়ে ভয়ে ভুলেই গেলাম অকম্যদার কথা, ভুল ক্রমে বলে ফেললাম, ‘টুনি আই লাভ ইউ। তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি।’ ফস করে এ কথা বলায় অকম্যদাও অবাক! আমি তো আরো বিস্মিত, টুনি এখনো আমাকে থাপ্পড় মারলো না কেন! তাই দ্রুত পিছন ফিরে মারলাম দৌড়। সে যাত্রায় থাপ্পড় থেকে বেচে গিয়ে আর ওদিকে মুখ করেও তাকাই নি। ৩ দিন পরে হঠাৎ একটা ম্যাসেজ আসলো মোবাইলে, অচেনা নাম্বার। ভাবলাম অকম্যদর ম্যাসেজ নাকি টুনির ম্যাসেজ! এই ভেবে ভয়েভয়ে ম্যাসেজ খুললাম। পড়ে বেশ অবাক, টুনির ম্যাসেজ, আমাকে লিখেছে, ‘ওই আই লাভ ইউ বলে এমন দৌড় দিলা যেন, আমি বাঘ তোমাকে খেয়ে ফেলবো? আমিও তোমাকে ভালোবাসি, এটা বুঝতে এত বছর লাগে?’ আমি মনে মনে ভাবি, কার প্রেম করার কথা! আর প্রেম করছে কে? ধন্যবাদ অকম্যদা। কিন্তু অকম্যদার পোড়া কপাল, ১০ দিন পর আমার সামনে এসে বলে, ‘তোদেরই তো দিন। এই কসম আমি আর প্রেম করতে চাইবো না।’

About the Author ফাতিন ইসরাক আবির

follow me on:

Leave a Comment: