কেল্টাদার কৃর্তি

 

আমাদের এলাকার কেল্টা দা। মাথায় সারাদিন দুষ্টুমি থাকার কারণে তার এই নামকরণ।

সারাটা দিন কেল্টামি করেই তার দিন কাটে, সকালে উঠেই পাশের বাসায় থাকা বুড়ি দাদির ছাগল ছানা নিয়ে মারবে দৌড়, বুড়ি দাদি তো চিল্লাফাল্লা করে গোটা পাড়া মাথায় তুলবেন। বিকালে আবার কেল্টাদা একটা বন্দুক হাতে নিয়ে, মাথায় গামছা পেছিয়ে লোককে ভয় দেখাবে। এই কারণেই অনেকে এ পাড়ার ধারেকাছে আসতেই ভয় পায়।

তো আমাদের এই কেল্টাদাকে একদিন ফেসবুকে আইডি খুলে দেয়া হলো। আইডি খুলে দিয়ে আমরা বললাম, ‘কেল্টাদা, তাহলে শুরু করে দেও। ফেসবুকে তোমার ক্ষমতা দেখিয়ে দেও দেখি।’ পরদিন থেকেই কেল্টাদা কে আর বাহিরে দেখা যায় না। বুড়ি দাদিকেও আজ জ্বালায় নি। ভাবলাম যাই হোক, এখন এলাকার মানুষ কেল্টাদার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে আর অন্য কেউ এ পাড়ায় ঢুঁকতে ভয়ও পাবে না। এ ভেবে বেশ খুশি হয়ে বাহিরে ঘুরতে গেলাম।

দুপুরবেলা এসে দেখি আমার বাসার সামনে পুলিশ! আর পুলিশের গাড়িতে কেল্টাদাকে নিয়ে যাচ্ছে। ভাবলাম, আমার অনুপস্থিতিতে কেল্টাদা কি নতুন কিছু করে ফেললো নাকি? দ্রুত জল্টু দা, পদা কে জিজ্ঞাসা করলাম, কিন্তু কেউ জানে না আসল ব্যাপার, আর কেউ কেল্টাদাকে আজ ঘর থেকে বাহির হতেও দেখে নি। তখন জলদি ফেসবুকে ঢুঁকে যা দেখলাম, তাতে আমার মাথা উল্টাপাশে ঘুরা শুরু করলো। কেননা কেল্টাদা ফেসবুকে একটা ছবি পোষ্ট করেছে, মাথায় গামছাবাঁধা আর হাতে একে-৪৭। আমি গেলাম পুলিশের কাছে, বললাম, ‘স্যার ওটা মনে হয় খেলনা বন্দুক ছিল’। পুলিশ গুলো আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কেল্টাদা কোথা থেকে যেন একটা পিস্তল বাহির করে আমার কানে ধরলো, আর বলল, ‘তোরা হট যা। নাহলে একে এখানেই মেরে দেব।’ সেই দৃশ্য দেখে আমিও হতভম্ব! তবে কি কেল্টাদা সত্যিই, তখন চোখ মেরে কেল্টাদা বুঝিয়ে দিলো, আরে বোকা এটাও ভুয়া।

যাই হোক, পরে পুলিশ বুঝতে পেরেছিল কেল্টাদার কাছে এগুলো সব নকল বন্দুক। তাই ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। কিন্তু সেই থেকে কেল্টাদার সব রকম দুষ্টুমি বন্ধ হয়ে যায়।

About the Author ফাতিন ইসরাক আবির

follow me on:

Leave a Comment: