অকম্যদা আর ঘুরতে যাবে না

 

আমাদের এলাকার অকম্য দা। যার সুনাম গোটা এলাকা জুড়েই। একবার অকম্যদাকে তার মা চাল আর ডাল কিনতে বাজারে পাঠালেন। হাতে দুটো পঞ্চাশ টাকার নোট দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, এই টাকা দিয়ে চাল আর এই টাকা দিয়ে ডাল কিনে আনবি। অকম্যদা বাজারে গেল। কিন্তু ঘন্টাখানেক পরে খালি হাতে বাসা ফিরল। কারন জিজ্ঞাস করায় মা’কে বলল, “মা কোন নোট দিয়ে কি কিনতে বলেছিলে ভুলে গেছিলাম।” আবার আরেকদিন অকম্যদা তার অতি সাধের কুকুরটা নিয়ে পুকুরে গোসেলে গেল। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, অকম্যদা ইচ্ছামত তার কুকুরটাকে পিটাচ্ছে। কারন জিজ্ঞাসায় অকম্যদা বলে, আরে এতক্ষণ ধরে সাঁতার শিখাচ্ছি তাও শিখছেই না। বলছি হাত গুলো সামনে আর পা থাকবে পেছনে তারপর শুয়ে দেবে সাঁতার। তবুও এই অবস্থা।

 

অকম্যদার এসব ঘটনা দেখে অনেক আগেই এলাকার গুরুজনেরা আকাশ খান থেকে অকম্য বানিয়ে দিয়েছে। অকম্যদার এসবকাহিনী এখন অনেকেই জানে না। তবু লোকের মুখে শুনেশুনে সবাই অকম্যদা বলি ডাকে। একদিন অকম্যদার সাথে কথা বলছি। অকম্যদা তার জীবনের কাহিনী শোনাচ্ছেন। হঠাৎ কথায় কথায় ঘুরতে যাবার প্লান মাথায় এলো। প্লান মত পরদিন বেড়িয়ে পড়লাম আমি, অকম্যদা আর বিল্টু। সারাদিন বেশ ঘোরাঘুরি হলো। খাওয়াদাওয়া সবাই বাসা থেকেই নিয়ে গিয়েছিলাম। তাই ফিরতে দেড়ি হলেও সমস্যা নেই। আমি আর বিল্টু বেশ সাহসী। কিন্তু অকম্যদা একেবারে ভিতুর ডিম। অচেনা এলাকায় আসার পর থেকেই অকম্যদা অসস্থি বোধ করছে।

 

দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষে বিল্টুকে বললাম, “চল অকম্যদাকে নিয়ে একটু মজা করি।” বিল্টু বলল, “আরে দাড়া। ফিরতে ফিরতে রাত করব। ফেরার পথেই মজা হবে।” বাকি প্লানটা বিল্টু কানেকানে শুনিয়ে দিল। কথামতো ফিরতে ফিরতে রাত করলাম। অকম্যদা ততক্ষণে ভয়ে কাঠ। কেননা এমনিতেই অচেনা জায়গা, তার উপর রাত হয়ে গেছে। অকম্যদা শুনালো, “ভাই আমার চল চল, সাইকেল তাড়াতাড়ি চালা। একবার এভাবে বাবার সাথে ঘুরতে এসে ডাকাতের ক্ষপরে পড়েছিলাম। চল চল।” ডাকাতের ক্ষপরের কথা শুনে আমি আর বিল্টু যেন অকম্যদা কে পেয়ে বসলাম। অকম্যদা কিছুটা এগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তার পেছনে আমরাও চলছিলাম। হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে দেখে আমরা কেউ নেই। অকম্যদা ভয়ে ভয়ে আমাদের জন্য থেমে গেল। আমরা ততক্ষণে একটা কাপড় দিয়ে নিজেদের মুখ ঢেকে ফেলেছি। আচমকা অকম্যদার সামনে লাফিয়ে হি হে হা হা করে হাসলাম। আর মোটা গলায় বলতে লাগলাম,”আমরা ডাকাত, যা আছে দিয়ে দে। নাহলে কপালে দুঃখ আছে।” অকম্যদা ভয়ে কাতর হয়ে বলল, “এবার ছড়ে দে বাপ। আর হবে না। ছেড়ে দে ছেড়ে দে।” বেশ কিছুক্ষণ এমন আর্তনাদ করার পর অবশেষে কাপড় সরিয়ে হাসাহাসি শুরু করলাম। তা দেখে লজ্জায় অকম্যদা বলেই দিল, যাই বলিস তোরা, আমি আর কখনোই ঘুরতে যাব না। এই বলে দিলাম।

 

এই ঘটনার পর থেকে অকম্যদা আর বেড়াতে যান নি।

About the Author ফাতিন ইসরাক আবির

follow me on:

Leave a Comment: