• You are here:
  • Home »
  • গল্প »

তারেকের ব্রেকাপ কিংবা সালিম ভাইয়ের ভাইভা

ক্লাসে ঢুকে দেখি তারেক এক কোনায় মুখ গোমরা করে বসে আছে। আমি কাছে গিয়ে বললাম কিরে মন খারাপ কেন? সে জানাল সব শেষ হয়ে গেছে। ওর কথা থেকে বুঝলাম ছোট্ট একটা এসএমএস এর কারণে তারেকের রিলেশান ব্রেকাপ হয়ে গেছে। একটা এসএমএস যে মানুষের সাত বছরের রিলেশান ব্রেক করে দিতে পারে তা জানা ছিলনা। আমি বললাম দেখিতো কি এসএমএস।মোবাইলটা আনমনে সে আমার দিকে বাড়িয়ে দিল।আমি ম্যাসেজ ঘাটতে গিয়ে দেখলাম সব ম্যাসেজই অনামিকার। অনামিকা তারেকের বান্ধবী। আমি শেষ ম্যাসেজটা বের করে পড়তে শুরু করলাম। খুব যত্ন করে ভালবাসা মাখিয়ে অনামিকা ওকে ম্যাসেজ দিয়েছে।

” If you are smiling,Send me your smile.

If you are sleeping,Send me your Dreams.

If you are Crying,Send me your Tears.

You know I love you More than i can say “

ম্যাসেজ পড়ে আবেগাক্রান্ত হয়ে প্রায় ক্রাশ খাইতেছিলাম!! এতো সুন্দর করে কেবল প্রেমিকারাই ম্যাসেজ দিতে পারে। আমি বললাম তোর বান্ধবীতো অসাধারন ম্যাসেজ দিয়েছে এতে ব্রেকাপ হওয়ারতো কিছু দেখিনা। তারেক একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো সে যখন ম্যাসেজটা দিয়েছিল আমি তখন ওয়াশ রুমে ছিলাম।ভাবলাম সাথে সাথেই ম্যাসেজের উত্তরটা দেই। তো উত্তর দিতেই সে ব্রেকাপ করে দিল!

আমি কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইলাম “তুই তোর বান্ধবীর দেওয়া অসাধারণ ওই ম্যাসেজের উত্তরে কি লিখেছিলি যে ব্রেকাপ হয়ে গেল” সে কোন কথা বললো না। আমি সেন্ট আইটেমে গিয়ে দেখলাম ওর শেষ ম্যাসেজ।

” I am in the Toilet, What should I send? “

আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কি প্রশ্নের কি উত্তর দিয়েছে গাধাটা! যদিও জানি সে মজা করার জন্য বলেছে। তবে ব্যক্তি জীবনে একটা কথা মনে রাখা দরকার যে কোন সময়ে কি সম্মোধন করতে হয় তা না জানলে হিতে বিপরীত হয়। যেটা হয়েছে তারেকের ক্ষেত্রে।

তো চলুন না একটা গল্প শুনি—-সময়ের উত্তর সময়ে না দিলে কি হয় সেটাই গল্পের মুল।

ইন্টারভিউ বোর্ড বসেছে। লোক নিবে চার পাচ জন কিন্তু পরীক্ষার্থী অনেক। আমাদের সালিম ভাইও গিয়েছে পরীক্ষা দিতে।তার প্রস্তুতি একেবারে যাচ্ছেতাই। সে মনে মনে ভেবেছে ওখানে গিয়ে সবার সাথে আলোচনা করলেই ভাইভা দেওয়ার মত ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তো একে একে পরীক্ষার্থীরা ভাইভা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আর সালিম ভাইয়ের ডাক আসার সময় চলে আসছে। সালিম ভাইয়ের আগে যে ব্যক্তি ভাইভা দিয়ে বের হলেন সালিম ভাই তাকে থামিয়ে জানতে চাইলেন

–তা ভাই কি কি প্রশ্ন করলো আপনাকে?

লোকটা বললো ভাই প্রশ্নগুলো মনে নেই তবে উত্তর মনে আছে।সালিম ভাই বললো আরে এটাইতো চাইছি। উত্তর গুলোই দিন। প্রশ্ন মনে রেখে লাভ কি?

লোকটা বললেন প্রথম প্রশ্নের উত্তর হবে পলাশীর যুদ্ধে। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হবে হওয়ার কথা ছিল ১৯৮৭ সালে কিন্তু হয়েছে ১৯৮৮ সালে। তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর হবে আছেতো অনেক জন কোনটা রেখে কোনটা বলবো। আর শেষ প্রশ্নের উত্তর হবে আপনি ঠিকই বলেছেন।ধন্যবাদ।

লোকটার উত্তর গুলো বেশ ভালভাবে রপ্ত করে সালিম ভাই ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হলেন।

বোর্ডকর্মকর্তারা তাকে প্রশ্ন করলো এই চাকরির আগে আপনি কোথায় ছিলেন?সালিম ভাই মুখস্থ উত্তর দিলেন পলাশীর যুদ্ধে। প্রশ্নকর্তারা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো।তাদের মুখে হাসি।দ্বিতীয় পশ্ন করা হলো আপনার জন্ম কত সালে?সালিম ভাই আগের মতই উত্তর দিলেন হওয়ার কথা ছিল ১৯৮৭ সালে কিন্তু হয়েছে ১৯৮৮ সালে। প্রশ্ন কর্তারা বোধহয় খুব মজার সাথে নিলেন বিষয়টা। তারা প্রশ্ন করলো মাহাত্মাগান্ধীর বাবার নাম কি? সালিম ভাই বললেন আছেতো অনেক জন। কোনটা রেখে কোনটা বলবো?

প্রশ্নকর্তারা কিছুক্ষণ থামলেন।তারা হাসিতে ফেটে পড়ছিল প্রায়। শেষ প্রশ্ন করা হলো সালিম ভাইকে। বলা হলো আপনারতো এই চাকরিটার কোন দরকার নেই।আপনি কি বলেন? সালিম ভাই মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে ফেললেন আপনি ঠিকই বলেছেন,ধন্যবাদ।

এবার হো হো করে হেসে উঠলো প্রশ্নকর্তারা। ঠিক তখন সালিম ভাইয়ের খেয়াল হলো যে কোন প্রশ্নের সে কী জবাব দিয়েছে।

মোদ্দা কথা হলো সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে উত্তর না দিয়ে সালিম ভাইয়ের মতই আমার বন্ধু তারেক ফেসে গেছে। তার ব্রেকাপ হয়ে গেছে।

 

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: