অসম্পূর্ণ

সকাল সকাল ঘুম থেক উঠে মনটা বেশ ফুরফুরে মেজাজের হয়ে আছে অমির। আজ তার জন্মদিন। সে অনুযায়ী তার বন্ধুরা অনেক আয়োজন করেছে। আজ রাতে তার বাসাতে খাওয়াই হবে না। কেননা ঢাকার একটি নামীদামী রেস্তোরাঁয় পার্টির আয়োজন করেছে অমির বাবা। সকাল সকাল ফেসবুকে ঢুঁকেও জন্মদিনের কিছু আভাস পেলো অমি। ফেসবুকে তার পরিচিত অপরিচিত, সব বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। কয়েকটা এস.এম.এসও জমা হয়েছে ইনবক্সে। তার মধ্যে একটি খুলেই সে পড়া শুরু করলো। পাঠিয়েছে তার প্রিয় মানুষটি যার নাম অরণ্য। নামটা দেখেই আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলো সে। দ্রুত পড়তে লাগলো, অরণ্য লিখেছে, “শুভ জন্মদিন প্রিয়। আজকে পার্টিতে আসছো তো?” ম্যাসেজটা অরণ্য অমিকে পাঠিয়েছে প্রায় দু’ঘন্টা আগে। তখন ঘুমিয়ে থাকায় ম্যাসেজ দেখতেও পারে নি সে, রিপ্লাইয়ো দিতে পারে নি সে। তাই দ্রুত ম্যাসেজ টাইপ করলো, “সরি! আমার ভুল হয়ে গেছে। আসলে ঘুমিয়ে ছিলাম তো, তাই দেড়ি হলো। আমি পার্টিতে অবশ্যই যাবো।” এটা লিখে অমি হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেস হতে বাথরুমে গেলো। এসেই ম্যাসেজে ঢুঁকলো, দেখলো অরণ্য ম্যাসেজ দিয়েছে, “আসো। অপেক্ষায় রইবো।” এরপরে আর কথা বলল না অমি, কেননা রাতে তো দেখা হবেই সবার সাথে। বিকাল হতে হতেই বাসায় বন্ধুবান্ধব আসতে শুরু করেছে। যদিও প্রায় বন্ধুবান্ধব রেস্তোরাঁয় আছে, তবুও যারা এসেছে তারা একান্তই অমির আপন বন্ধু। প্রথমে তমা এসে শুভেচ্ছা জানালো তাকে। সে সাদরে গ্রহণ করে বললো, “ধন্যবাদ টম”। আসলে তমাকে বন্ধুবান্ধবীরা টম বলেই ডাকে। এরপর গিফট নিয়ে এলো জারিন। সুন্দর ভঙিতে অমির হাতে সে গিফটটি তুল দিলো আর সাথে জন্মদিনের অভিবাদন জানালো। প্রতিউত্তরে এবার অমি বললো, “ধন্যবাদ জেরি”। বন্ধুবন্ধবদের দেয়া নাম। জারিন থেকে জেরি, তমা থেকে টম। এরপর একে একে সব বন্ধুরাই গিফট দিচ্ছে আর অমি তাদের বন্ধুবান্ধব কতৃক দেয়া নাম ধরে উস্কে দিচ্ছে। একেএকে সবাই রেস্তোরাঁর উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লো। অমি তখনো বাসায় একা। অনেকক্ষণ ধরে সাজগোজ করছে সে। সাজগোজ করতে সময় লাগবে দেখে সে তার বন্ধুদের রেস্তোরায় পাঠিয়ে দিয়েছে।

 

প্রায় দু’ঘন্টা পরে অমি বেড়িয়েছে পার্টির উদ্দেশ্যে। একটু যেতেই তমার কল এলো। ফোন ধরেই অমি বললো, “আরে যাচ্ছি যাচ্ছি। দশ মিনিট অপেক্ষা কর।”.. ওপাশ থেকে ফোন রেখে দেয় তমা। সবাই হই-হুল্লোড় শুরু করে। নাচানাচি, গানবাজনা আরো কত কিছু। এমনকি অরণ্য নিজেও একটা গান গেয়েছে সবার সামনে। তারপর থেকে একেএকে সবাই গান গাইছে আর বাকিরা সুর মিলাচ্ছে সাথে হাত তালি দিচ্ছে।

 

কিন্তু পনেরো মিনিট পরেও অমি এলো না। তার বন্ধুরা অপেক্ষার প্রহর গুনছে কিন্তু অমির দেখা নেই। এভাবে এক ঘন্টা কেটে যাবার পরো অমি এলো না। বারবার ফোন করেও দেখা গেলো ফোন বন্ধ। সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়লো, তার কিছু হলো নাকি! অবশেষে কিছুক্ষণ পরে তমার নাম্বারে অমির নাম্বার থেকে কল এলো, তমা ধরেই বললো, “হ্যালো! অমি, কোথায় তুই?” ওপাশ থেকে একজন পুরুষ বললেন, “অমি আপনার কি হন? উনি রোড এক্সিডেন্ট করেছেন। এখন ঢাকা মেডিকেলে আছেন। দ্রুত চলে আসুন, অবস্থা গুরুতর।” কথাটা শুনেই স্তব্ধ হয়ে যায় তমা। নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছিলো না তার। সবাইকে মিলে ছুটলো ঢাকা মেডিকেলে। ইমার্জেন্সি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো অমি মারা গেছে। শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় সবাই। শেষপর্যন্ত নিজের জন্মদিনের পার্টিটা করতে পারলো না অমি, এটা ভেবে কান্নায় ভারী হতে লাগলো পরিবেশ।

About the Author ফাতিন ইসরাক আবির

follow me on:

Leave a Comment: