• You are here:
  • Home »
  • গল্প »

আনিসুল হকের বইয়ের তালিকার একটি গল্প

 

এক ছিল রাজকন্যা সে তার প্রাণ প্রিয় “মা” কে বললো জানো মা “আমাদের ক্লাসে একটা পরী পড়ে” মা শুনেতো অবাক। কিন্তু মাও পিচ্চিকে অবাক করে দেওয়ার জন্য বললো এ আর এমন কি? তুমি জানো “রোজ বৃহস্পতিবার আমাদের বাসায় চোর আসে” আম্মুর কথা শুনেতো পিচ্চির চোখ কপালে। জানতে চায় চোর কখন আসে? আম্মু বলে তুমি ঘুমিয়ে গেলে আসে। পিচ্চি নাম সুমাইয়া মিফরা । মিফরা কিছু বলার আগেই বাবার ফোন। রিসিভ করে জানা গেল বাবা লিফটে আটকা পড়েছেন। আম্মু গিয়ে লিফট খুললেন। দেখা গেল সেখানে ঝুনু খালামনিও আছে সাথে তার বড় ছেলে। আম্মু হেসে দিয়ে বললেন কি খবর “লিফটে আটকে পড়া যুবক যুবতীরা” বাবা হাত থেকে এক গোছা গোলাপ আম্মুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন “পৃথিবীর সব থেকে সুন্দরী রমনী আপনার জন্য” ঝুনু খালা হেসে দিয়ে বললেন আপা “বিক্ষোভের দিন গুলিতে প্রেম” মনে আছে এখনো?

ঝুনু খালার কথা শুনে আব্বু বললেন শুধু সেই কথা কেন “বেকারত্বের দিন গুলিতে প্রেম” ও মনে আছে। তারেক ভাইয়া পাশেই দাড়িয়ে ছিল। সে বললো “একাত্তুরের একদল দুষ্টু ছেলে”দের কথা আমার খুব মনে পড়ে। কিসের মধ্যে কি পান্তাভাতে ঘি। তারেক ভাইয়ার বোকার মত কথা শুনে আমি হেসে দিয়ে বললাম তুমি কি “গুড্ডু বুড়া” তাহলেতো “গুড্ডু বুড়ার মজার কান্ড” দেখা যাবে।

আমার কথা শুনে মিফরা বললো আমি কি “স্বপ্ন” দেখছি? নাকি “শহরের অদ্ভুত জন্তু” দেখছি। ওরকথা শুনে আমরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম। মনে পড়ে গেল “ছোটরা যেদিন বাড়ির বড় কর্তা” ছিল সেদিনের কথা। কতইনা মজা করেছি সেদিন।

নোভা সেদিন “বোকা গোয়েন্দা” সেজেছিল। ওর সব “ভুল গুলো ভালবাসা গুলো” বাড়ির বড়রা ক্ষমা করে দিয়েছিল। রোজা আপু সেদিন মজা করে ওকে চিঠি লিখে বলেছিল “মনে রেখো প্রিয় পাতা”

“এই গল্পটা হাসির” “চার প্রিয়তা” “রম্য অরম্য” নিয়ে “বারটা বাজার আগে” খুনসুটিতে মেতে ছিল। ঠিক সেই সময় “শিপরা নামের পিপড়া মেয়েটা” এসে হাজির। পিছন থেকে কে যেন ওকে ডাকছিল “ফিরে এসো সুন্দরী তমা” কিন্তু সে ফেরেনি। যে বাড়িতে “কাকের নাম সাবানী” সেখানে বসে “নক্ষত্রের পানে চেয়ে বেদনার পানে” “খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে” লেখাই যায়। কিন্তু সেই চিঠিটা বেহাত হওয়ায় “জামাই সেজে চোর ঢুকেছিল” বাড়িতে সেটা সবার মনে আছে।

চা খেতে খেতে কখন যেন কেটে গেছে “অন্ধকারের একশো বছর” কেউ টের পাইনি। “রাজা যায় রাণী আসে” কিন্তু “সুদুর তমা” আর আসেনা। “গোধুলী” নামের ছোট্ট মেয়েটি “স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভঙ্গের দেশে” গিয়ে কান্না নিয়ে ফিরে এসেছে। “একটি নিষ্ঠুর কল্প কাহিনী এবং” “বীর প্রতীকের খোজে” সে কতনা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আজ ক্লান্ত।

চা খেতে খেতে বাবাকে হঠাৎ মিফরা প্রশ্ন করে “চিয়ারি বা বুদু ওরাও কেন দেশ ত্যাগ করেছিল” তা জানতে চায়। ওর প্রশ্নের জবাবে বাবা বলেন “স্বপ্নের মানুষ” ছিল “হৃদিতা” তাকে খুজতেই সে দেশ ত্যাগ করেছিল। কিন্তু ওরা “দুঃস্বপ্নের যাত্রী” হতাশ কন্ঠে বলেছিল “আলো অন্ধকারে যাই” ফাহিম ভাইয়া মিফরাকে খুব খ্যাপায়। তাই সে হঠাৎ বলে উঠলো “আপা তোমার আব্বাকে একটু আব্বা বলে ডাকি এবং” আদর করি। মিফরাও বৃদ্ধি করে ফিক করে হেসে দিয়ে বললো “এতোদিন কোথায় ছিলেন”?

আমাদের কথা বলার ফাকে দেখি আম্মু কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছেন। হঠাৎ শুনি আম্মু বলছে “বিজয়ী হবে বাংলাদেশ” “তোর জন্য,প্রিয়তা” বুঝলাম প্রিয়তা খালামনির সাথেই কথা হচ্ছে কিছু একটা নিয়ে। অবশ্য বাবা বলেন প্রিয়তার সাথে কথা বলা আর “অরণ্যে রোদন” করা সমান কথা।

বাবা মাঝে মাঝে কবির হয়ে যান কিছু সময়ের জন্য। সেই চায়ের আড্ডাতে বাবা বলে উঠলেন “তোমাকে ভাবনা করি” চার প্রিয়তা” । আমি গুনে গুনে দেখলাম সত্যিই চারজন আছেন তার প্রিয় মানুষ। যদিও আমরাও তার প্রিয়। কিন্তু আমরাতো “দুঃখ পরী,সুখ পরী” আর ফাহিম ভাইয়া এবং তারেক ভাইয়ারাতো “ভীন গ্রহের ক্রিকেটার”। যদিও তারা ক্রিকেট মোটেও পারেনা। কারণ একদিন তারেক ভাইয়া বলেছিল বাংলাদেশের সেরা ব্যাটস ম্যান মাশরাফী বিন মুর্তজা যখন ব্যাট করে তখন এক নাম্বার উইকেট কিপার মুস্তাফিজকে আর স্টাম্পের পিছনে থাকা লাগেন।

“আমার একটা দুঃখ আছে” সবাই আমাকে বলে “ছোটদের বিদ্যাসাগর” অথচ দেখ আমি কিন্তু সামান্যি অখ্যাত মানুষ। আমি জানি “এ ভালবাসার কোন মানে হয়না” তাই আমি বার বার বলছি “প্রিয় পাঠক একটু হাসুন” এবং “ভালবাসা ডটকম” এ ভিজিট করে “না মানুষি জমিন” দেখে আসুন।

গল্প বেশ জমে উঠেছিল কিন্তু ঝুনু খালা আমাদেরকে নিজেদের রুমে যেতে বললেন। সন্দেহ করলাম নিশ্চই কিছু আছে। আমি “মটকু মামার গোয়েন্দা অভিযান” মনে করে লুকিয়ে শুনতে চেষ্টা করলাম। দেখি ঝুনু খালা বলছে ফিরে এলাম “অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর”। সব শুনেতো আমার মাথায় হাত। “খেয়া” ঘাটের ওপার থেকে “যারা ভোর এনেছিল”তাদের কথা এরা মনে রাখেনা ঠিকই কিন্তু ওসব মনে রাখে। অথচ এরা জানেইনা “ফাটা ডিমে আর তা দিয়ে কি ফল পাবে”।

বাবার মুখে কথার খই ফুটলো। বললো “সে” “একাকী একটি মেয়ে” ” তার নাম “সুচরিতাসু”। সে ছিল আমার “বৃষ্টি বন্ধু” যার সাথে আমার “শেষ বিকেলে দেখা” হয়েছিল চার রাস্তার মোড়ে। সব শুনে নিজেকে “রোবট” মনে হচ্ছিল। আবার মনে হচ্ছিল “লম্বু ভূত” আসলে “আমি আছি আমার অনলে”। সেখানে “বেটে ভুত” নেই “ঘোড়ার ডিম” নেই কিন্তু আছে “শাকালাকা বুমবুম”। পাশের বাসার “তিনি এবং একটি মেয়ে” যার নাম “মায়া” মিলে “৫১ বর্তী” পরিবার। আমি “ফাজিল” আমার ভাবনা একটাই। “আয়েশা মঙ্গল” “পাই বা না পাই” নিশ্চই “অন্য শরীর” পাবো। হঠাৎ দেখি বাবা বলছেন “অহেতুক কৌতুক” রেখে এটা নাও “সেজুতী তোমার জন্য” এক গুচ্ছ মালা এনেছি। এটার জন্য বাবা আম্মুর হাতে “ধরা” খেলেন। আম্মু মজা করার জন্য বললেন “মেঘরে মেঘ তুই আছিস বেশ” বাবা বললেন তুমি জানো “অশ্ব ডিম্ব” মা উল্টো বললেন “গাধা”। তার পর সে কি হাসাহাসি।

এতোক্ষণ শুনিয়ে গেলাম “সরস কথা নীরস কথা” এটাই আমাদের “রঙ্গ ভরা বঙ্গদেশ”। আমরা “ভালবাসি আশ্চর্য মেঘ দল” এটা তোমাদের কাছে “রম্য কথা” মনে হতে পারে কিন্তু আমরা ভাবি “পড়শী যদি আমায় ছুতো”। কিন্তু পড়শী আসেনা। আমাদের গল্প শেষ হবেনা যদিও পাই “দ্বিতীয় জীবন” কারণ “আইভরি কোষ্টের লাল সবুজের পাশে” আমাদের “ভালবাসা মন্দ বাসা”। সেদিন “কালরাত্রি” ছিলনা তার পরও মনে হলো “এই যন্ত্র লইয়া আমরা কি করিব”।

বাবা আবার কবি হয়ে গেছেন। ঝুনু খালার দিকে তাকিয়ে আবৃত্তি করছেন “দখিন হাওয়ার দক্ষিণ বারান্দায়” “ফাল্গুনের রাতের আধারে” এটা “তোমাকে না পাওয়ার কবিতা”। আম্মু বললেন ও তলে তলে তাহলে এই ছিল? বাবা তখন আম্মুকে শান্তনা দেওয়ার জন্য বললেন “প্রিয়তমাসু” “সেই গুমের পর” “ঊষার দুয়ারে” তোমাকেই দিয়েছিলাম “শুধু একদিন ভালবাসা”। এটা শুনে আম্মু আরো রেগে গেলেন। কী একদিন ভালবাসা? আর বাকি দিন কার শুনি? যদিও জানি সব ছিল আব্বু আম্মুদের খুনসুটিমাত্র।

“আজকালকার ভালবাসার গল্প” শুনলে “হাসতে হাসতে খুন” তবে আমাদের একটা বিড়াল ছিল “পুষি” সে আবার “রাখাল বালকের মুক্তি যুদ্ধ” আর “রাক্ষোস খোক্কস” এর গল্প শুনতে ভালবাসতো। কিন্তু তাকে কে গল্প শোনাবে? এখনতো “কিডনাপারের কবলে গুড্ডু বুড়া” এই সময় Anisul Hoque হাসতে হাসতে প্রবেশ করলেন আর বললেন “আমারও একটা প্রেমকাহিনী আছে” সুতরাং “ভালবাসো,বাঁচো”।

তার কথা টেনে নিয়ে খালামনি একটা চেয়ার এগিয়ে দিতে দিতে বললেন “ভালবেসে তোমায় দিলাম” আর ঠিক তখনি ঘটে গেল “যত কান্ড চিয়ার নিয়া” তবে আর যাই হোক তেমন কিছু ঘটেনি কারণ সেখানে তখন “জেনারেল ও নারীরা” ছিলনা। কেবল ছিলেন এক গল্পের যাদুকর আনিসুল হক।

……(সংক্ষেপিত)

(আরো অনেক গুলো বই বাকি আছে সময়ের অভাবে দেওয়া হলোনা)

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: