একটি আষাঢ়ে গল্প

বৃহ:স্পতিবার সন্ধ্যে ৭টা, মন উচাটন। সারা সপ্তাহ শিপমেন্টের ব্যাপক চাপ ছিল। ভাবলাম ঘুরে আসা যাক কুয়াকাটা-কক্সবাজার! গিন্নীকে বললাম, চলো।

 

রাত ৯ টার ক্যাটামারান ধরবো। রাত সাড়ে ৮ টার মধ্যে বেরিয়ে পড়লাম। ১০ মিনিটের মধ্যে রামপুরা থেকে সদরঘাট। ঠিক ৯ টায় লঞ্চ ছাড়লো। কেবিনে শুয়ে নদীর কলতান আর আকাশের তারা গুনতে গুনতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি টের পাইনি।

 

ভোর ৪ টায় কুয়াকাটা পৌঁছে হোটেলে চেক ইন করে তৈরি হয়ে চললাম কাউয়ার চরে সূর্যোদয় দেখতে। তারপর আবার হোটেলে ফিরে চললাম সমুদ্র মন্থনে। দুপুরের দিকে স্পীডবোটে ফাতরার বনে জঙ্গল মহল রেঁস্তোরায় কাঁকড়া ভাজা, লাক্ষা মাছ আর লইট্টা ফ্রাই দিয়ে ভরপেট লাঞ্চ করে বিকেল ৪টার ফ্লাইট ধরলাম কুয়াকাটা থেকে। কক্সবাজার নেমে তড়িঘড়ি চললাম সূর্যাস্ত দেখতে। ইজি চেয়ারে শুয়ে সমুদ্রের গর্জন আর এলোমেলো উথাল হাওয়ায় মন প্রাণ জুড়িয়ে গেলো। হঠাৎ মনে হলো,আরে, কাল সকালে অফিস আছে তো। ভাবলাম, ফ্লাইট ধরবো রাত ১২ টার। গিন্নী বললো, নাহ, চলো রাত ১ টার স্পীড ট্রেন ধরি। ডাবল স্লীপার বুক করো, কিছুটা ঘুম ট্রেনেই হয়ে যাক। কি আর করা। বীচে বসেই মোবাইলে টিকেট কনফার্ম করে রাত ১০ টায় চললাম ডিনারে।

 

ইয়া বড় লবস্টার আর কোরাল মাছের ভুনা খেয়ে ঢেঁকুর তুলে হেলেদুলে রাত ১২ টার পরে চললাম কক্সবাজার স্পীডট্রেন ডিপোতে। রাত সাড়ে ৩ টেয় পৌঁছে গেলাম ঢাকায়। অত:পর আরো ঘন্টাতিনেক বাসায় ঘুমিয়ে শনিবার সকালে অফিস ধরলাম। শরীর মন একমাসের জন্য চার্জড হয়ে গেল। পরের মাসে ভাবছি ঢাকা টু সাজেক ফ্লাইট ধরবো।

About the Author বিপ্লব কুমার মহাজন

পৃথিবীর সাধারণ একজন মানুষ।

follow me on:

Leave a Comment: