আলমারি

প্লাবন স্কুলের জন্য রেডি হচ্ছিল। তাদের নতুন এই শহরে এসে এই নতুন বাসায় উঠে আজই প্লাবন প্রথম নতুন স্কুলে যাবে। বাসাটা প্লাবনের বাবা অফিস থেকে পেয়েছেন। বাসাটা বেশ সুন্দর এবং ওয়েল ফার্নিশড। গতকাল রাতেই তারা এই বাসায় উঠেছিল তাই পুরো বাসাটা ভলোমতো দেখার সময় হয়ে ওঠে নি। শুধু মাত্র একটা ঘর খুলেই প্লাবন আর ওর বাবা ঘুমিয়ে পরেন। প্লাবন স্কুল ড্রেস পরে রেডি হয়ে গেল এরই মাঝে প্লাবনের বাবা দোকান থেকে পাউরুটি,কলা আর ডিমের ওমলেট নিয়ে আসলেন। তারা ব্রেকফাস্ট করল এবং বাসা লক করে চলে গেল। প্লাবন দুপুরে বাসায় ফিরল তার কাছে বাসার ডুপ্লিকেট চাবি ছিল, সে তালা খুলে ভেতরে ঢুকে পরল। বাসার সবকিছু সাজানো -গোছানো তার কাছে চাবি থাকায় সে সবকটা ঘর খুলে দেখল। বাড়িটায় মোট ৫ টা ঘর ২ টা বেডরুম ১টা ড্রইং আর ১টা ডাইনিং এবং ১ টা রান্নাঘর । বেডরুমগুলোর সাথে বাথরুম এটাছড। হঠাৎ সে একটা বেডরুম ঘুরতে ঘুরতে দেখল বেশ পুরোনো আমলের বড় একটা আলমারি। আলমারিটা পুরোনো হলেও নজরকারা। বলতে গেলে আলমারিটার জন্যই ঘরটা সুন্দর লাগে। সন্ধ্যায় প্লাবনের বাবা বাসায় ফিরলে প্লাবন ওই ঘরটা নিজের ঘর হিসেবে পেতে চায় প্লাবনের বাবাও সাথে সাথে রাজি হয়ে যান। প্লাবন আনন্দে হাসতে থাকে, ওর বাবাও ওর হাসি দেখে হাসতে থাকেন। সময় কেটে যায় রাত হয়। প্লাবন রাতের খাবার সেরে ওর নতুন ঘরে শুতে যায়। বিছানা ঠিক করে শুয়ে পরে। প্লাবন প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় ওর মায়ের কথা ভাবে। ওর মায়ের কথা ওর তেমন কিছু মনে নেই বাবার কাছে শুনেছিল ওর মা নাকি খুব রুপবতী ছিলেন আর অনেক বুদ্ধিমতীও। প্লাবনের কাছে ওর মায়ের মাত্র একটিই ছবি আছে। ও সেটাই দেখে , সত্যিই ওর মা খুব সুন্দর ছিলেন। প্লাবনের বয়স যখন মাত্র ৩ বছর তখনি রোড এক্সিডেন্টে প্লাবনের মা মারা যান। এখন প্লাবন বেশ বড় হয়েছে ক্লাস সেভেনে পড়ে।

রাত ১২:৩০ বাজে মায়ের কথা ভাবতে ভাবতে প্লাবন যে কখন ঘুমিয়ে পরেছে কে জানে! সে এখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন। হঠাৎ প্লাবনের ঘুম ভেংগে গেল সে খেয়াল করল তার আশেপাশে প্রচন্ড শব্দ হচ্ছে সে ভাবল ঘুমের ঘোরে আছে তাই হয়ত এরকম হচ্ছে এইভেবে সে আবারো ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আবারো সেই শব্দ প্লাবন এবার উঠে পরল সে খুজতে থাকল আসলে শব্দটা আসছে কোথায় থেকে অনেক খোজাখুজির পর সে আবিস্কার করল শব্দ আসলে আলমারি থেকে আসছে। সে বিচলিত হয়ে গেল কারন দিনের বেলাই সে তার সব জামা-কাপড় আলমারিতে ঢুকিয়ে ফেলেছিল! প্লাবন কাঁপছিল সে তার কাপা কাপা হাতে আলমারি খুলে যা দেখল, তা দেখেই সেখানেই অজ্ঞান হয়ে গেল! কিছুক্ষন পর তার জ্ঞান ফিরল সে উঠে বসে ঘড়িতে দেখল ৩ টা বাজে পরক্ষনেই সে আলমারির দিকে ভয়ে ভয়ে তাকাল দেখল সবকিছু স্বাভাবিক আলমারির দরজা দুটো খোলা যেমন করে সে খুলে রেখেছিল । সে উঠে ভলো করে দেখলো কিন্তু না সবকছুই স্বাভাবিক। প্লাবন সেই রাতে আর ঘুমাতে পারল না। পরের দিন প্লাবনের বাবা ওকে ব্রেকফাস্টের জন্য ডাকতে এলেন প্লাবন ভাবছিল তার বাবাকে সবকিছু বলে দিবে কিন্তু পরক্ষনেই সে ভাবল বিষয়টা নিয়ে তার আর একটু ভাবা উচিৎ তাই সে বাবাকে কিছুই বলল না। সেই রাতে প্লাবন ঘরে দরজা লাগিয়ে দিয়ে লাইট অফ করে দিল, তারপর বিছানায় বসে রইল। হঠাৎ তার মায়ের কথা ভেবে খুব খারাপ লাগতে লাগল কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল। কিছুসময় পরে সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ১ টা বাজতে ৩ মিনিট বাকি ঠিক তখনি আবার সে গতরাতেই সেই জোরালো আওয়াজ শুনতে পেল সে উঠে দাড়ালো এবং আলমারির কাছে গেল সে ভয়ে ভয়ে আলমারির দরজা ধরে টান দিল কিন্তু দরজা খুলল না সে আবারো দরজা ধরে খুব জোরে টানলো তবুও খুলল না এবার সে দাড়িয়ে রইল হঠাৎ আলমারির দরজাটা নিজে থেকেই খুলে গেল, আর ঠিক গতকালের মত নীল আলো বের হতে লাগল আর যা দেখে মনে হয় কেউ বুঝি অপাশ থেকে টানছে। এটাই দেখে প্লাবন গতরাতে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল কিন্তু আজ প্লাবন অনেক সাহস যুগিয়েছে সে নিজেই অদিকে একটু এগিয়ে দেখতে গেল আর অমনি প্লাবন অপাশে চলে যাচ্ছিল সে নিজেকে থামাতে চাইল কিন্তু পারল না।

হঠাৎ সে লক্ষ করল যে অন্যরকম একটা জায়গায় অবস্থান করছে এই জায়গাটা বেশ অদ্ভুত! আকাশ এখানে লাল রংয়ের সবকিছুই কমলা কমলা বর্ণ ধারন করেছে। হয়ত আলোর প্রভাবেই এমনটা হয়েছে। প্লাবন নির্ভয়ে সামনে যেতে থাকল। সে চারদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগল হঠাৎ সে একধরনের আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিজেকে একটা গাছের পেছনে আড়াল করল। সে দেখতে পেল একধরনের জন্তু যারা আওয়াজ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা চলে গেলে প্লাবন আবার এগুতে থাকে হাটতে হাটতে সে দেখল কিছু মানুষ যারা প্লাবনকে দেখে ডাকতে থাকল । প্লাবন ছুটে গেল। প্লাবন তাদের জিজ্ঞেস করল যে কি হয়েছে উত্তরে তারা জানালো যে তাদের এখানে বন্দি করে রাখা হয়েছে কিন্তু সমস্যাটা আলমারিতে ওই আলমারির মালিক ছিলেন একজন যাদুকর আর আলমারির ভেতরের জগৎ সেই যাদুকরের তৈরী আর সেখানে তাদের ওই জন্তুরা ধরে রেখেছে। আর সেই জগতে যাদুকরের একটা মুকুট রাখা আছে যদি কেউ সেই মুকুট ভেংগে ফেলতে পারে তাহলেই সবকিছু স্বভাবিক হয়ে আসবে এবং সবাই সবার বর্তমান অবস্থায় ফিরে যাবে।কিন্তু ওই জন্তুদের ভয়েই তারা কিছু করতে পারে না।

প্লাবন অনেক্ষন ভাবল। তারপর সবাইকে নিয়ে যেতে থাকল। বাকি সবাই ওঈ জন্তুগুলোর দৃষ্টি আকর্ষন করছিল জন্তুরা ইতোমধ্যেই অনেক রেগে যাচ্ছিল। প্লাবন অবশেষে মুকুটখানি খুজে পেল সাথে সাথে সে একটা রড পরে থাকতে দেখে হাতে নিয়ে দৌড়ে নিয়ে একবার মুকুটে আঘাত করল মুকুটের উপরের মুক্তাটা ভেংগে গেল আর জন্তুগুলো সবকিছু বুঝে গেল তারা প্লাবনকে ধরতে আসছিল আর মানুষগুলো চিৎকার করছিল “প্লাবন তাড়াতাড়ি, তুমি পারবে প্লাবন, তুমিই পারবে।” প্লাবন ঘাড় ঘুরিয়ে সাথে সাথে চোখ বন্ধ জোড়ে মুকুটে আবার আঘাত করল , তারপর সে টের পেল কোন শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখল সে তার বেডরুমে কিন্তু তার হাতে ওই রডটা এখনো আছে। প্লাবন ঘর থেকে বের হয়ে দেখল সকাল হয়ে গেছে। তার বাবা তাদের জন্য ব্রেকফাস্ট বানাচ্ছেন। সে তারাতারি গিয়ে ওর বাবাকে সবকিছু বলল ওর বাবা সবকিছু শুনে মুচকি হাসলেন আর বললেন “তোমার মা সাহসী ছেলে খুব পছন্দ করতেন!”

Leave a Comment: