• You are here:
  • Home »
  • গল্প »

পিথাগোরাসের প্রথম উপন্যাস এবং মোড়ক উন্মোচনের খবর

বিশ্ব বিখ্যাত ঔপন্যাসিক পিথাগোরাসের প্রথম উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম!!বইটির নাম অবশ্য জানা যায় নি। গুগলে সার্চ দেওয়ার পর সে জানালো তুমি যদি অপারেশান সার্চ লাইট দিয়ে খুঁজতে পারো তবে হয়তো পেলেও পেতে পারো।
আমি তার সাথে তর্ক করতে যাবো তখন নিউটনের গাছ থেকে আপেল পড়লো। সেটা খাবো না তর্ক করবো?মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল নেপালের রাজধানী নেপচুনে। নেপচুন যে নেপালের রাজধানী এটা জানা ছিল না। পরে সদ্য গ্রহত্ব হারানো প্লুটোকে ফোন করে জানতে পারলাম নেপালে প্রবল ভুমিকম্পের কারণে রাজধানী সরে নেপচুনে চলে গিয়েছে আর সেই প্রবল ভুমিকম্পের কারণেই প্লুটোর গ্রহত্ব বাতিল হয়েছিল।
তো পিথাগোরাসের কাছে জানতে চাওয়া হল আপনি যে উপন্যাসটি লিখলেন তা লেখা শুরু করেছিলেন কবে। পিথাগোরাস বললেন আমি শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস ১৭ই আগষ্ট উপন্যাসটি লেখা শুরু করেছিলাম এবং সেটা ২৬ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসে শেষ করেছি। কিন্তু পিথাগোরাস তার উপন্যাস লিখতে গিয়ে পড়লেন বিপদে। হঠাৎ বিদ্যুত চলে গেল তখন তিনি অপারেশান টেবিল থেকে সার্চ লাইট নিয়ে এসে আবার লেখা শুরু করলেন।
পিথাগোরাসের উপন্যাসে উঠে এসেছে কিভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করা যায়। তিনি বলেছেন গুরুজনের নাম ধরে ডাকতে নেই তাই তার রচিত উপন্যাসে বাংলাদেশের মাননীয় প্রেসিডেন্টের নাম দেওয়া হয়নি।
তিনি মনে করেন বড় বড় শব্দ মুখস্ত করে লাভ কি তাই জিপিএ মানে জানা না জানা নিয়ে কারো প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তার মতে পাশাপাশি দুটো এস থাকলে সাথে সি অক্ষরটা বেমানান তাই স্কুল সেকেন্ডারি শব্দটিই সব থেকে যুক্তিযুক্ত। উপস্থিত ছিলেন নিশাদ মজুমদার।তিনি বললেন আপনার এই উপন্যাসের ভাষা এভারেস্টের মত উচু মানের। পিথাগোরাস খুশিতে তাকে কুর্নীশ করে বললেন ধন্যবাদ। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে এভারেষ্ট যেহেতু ইংল্যান্ডে অবস্থিত!! তাই সেই ঐতিহ্যের কথা স্মরণে রেখে নির্ভূল ভাবে উপন্যাসটি লিখেছি।
ওয়াসফিয়া নাজরীন – Wasfia Nazreen তখন পাশ থেকে নিশাত মজুমদারকে খোঁচা দিয়ে বললেন, এতো কষ্ট করে তাহলে আমরা কোন পর্বত জয় করে এলাম? এভারেষ্টতো ইংল্যান্ডে!!!। ঠিক এই সময় আবদুল মুহিতের ফোনে ফোন আসলো। তিনি ফোন রিসিভ করতেই ভেসে আসলো Musa Ibrahimএর কন্ঠ। তিনি জানালেন সব আমাদের চারজনের খাটাখাটনিই সার। কোন পর্বত না জানি জয় করে এসেছিলাম। যাই হোক সব ঠিক ঠাক করে রেখেছি। আপনারা তিনজন আসলে এবার চার জন মিলেই ইংল্যান্ড গিয়ে সত্যিকার এভারেস্ট বিজয় করে আসবো।
পিথাগোরাস তার উপন্যাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছেন। সহজে দেশটা স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে নয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সব শেষে তার এই সাফল্যমন্ডিত উপন্যাসের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হলো এবং তাকে সার্টিফিকেট দেওয়া হলো।
রমিজ কাকা চোখ কম দেখেন তাই সার্টিফিকেটটা চোখের খুব কাছে নিয়ে দেখতে পেলেন সেখানে লেখা আছে জিপিএ ফাইভ!
ঘটনাটা এর পর একজন ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলেন। সেখানে তিনি ট্যাগ করলেন রীবন্দ্রনাথ ঠাকুর,কাজী নজরুল ইসলাম,আইনস্টাইন,নিউটন,এডমন্ড হিলারী সবাইকে। কমেন্টের বন্যা বইয়ে গেল। যাদের ট্যাগ করেছিলেন তারা স্মাইলি ফেস দিয়ে জানালেন ভাগ্যিস তারা কেউ জিপিএ ফাইভ পায়নি।
মার্ক জুকারবার্গ সব জেনে শুনে স্ট্যাটাস দিলেন পৃথিবী বিখ্যাত ঔপন্যাসিক পিথাগোরাসের উপন্যাস কেউ পড়ুক আর না পড়ুক আমার লেখা ফেসবুক অবশ্যই সবাই পড়ে। এবং শুধু মাত্র ফেসবুক পড়লেই জিপিএ ফাইভ পাওয়া যায়।
সেদিন মার্ক জুকারবার্গের ফলোয়ার বেড়ে দাড়ালো একশো কোটি

About the Author জাজাফী

লেখক হয়ে জন্ম নেইনি, লেখক হতেও নয়। তবু আমি লেখক হলে, সেটাই হবে ভয়। জাজাফী এমন একজন যার অতীত এবং ভবিষ্যৎ জানা নেই, বর্তমানই সব।

follow me on:

Leave a Comment: